মিথ্যাচারের জাল, সুহাস চাকমার মতো দালালদের ছড়ানো ‘হামাস’ আতঙ্ক এবং রূঢ় বাস্তবতা!
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ৯’ (News9)-এর একটি লাইভ পডকাস্টে অংশ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের এই ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন সুহাস চাকমা নামের এক তথাকথিত বিশ্লেষক, যিনি মূলত ভারতীয় স্বার্থের দালালি করছেন। ঢাকায় ধর্মীয় সমাবেশে হামাস নেতাদের উপস্থিতি এবং বাংলাদেশে হামাসের সক্রিয়তার যে দাবি তিনি করছেন, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক।
বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যাপক জনসমাবেশ এবং ছাত্র বিক্ষোভ দেখেছে। এসব বিক্ষোভে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো, ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানানো এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে হওয়া বিক্ষোভেরই সমতুল্য। ঢাকায় “হামাস নেতারা” অবস্থান করছেন বা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন—এমন কোনো আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত বা বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা প্রমাণ নেই। বর্তমানে ইসরায়েল জাতিসংঘ (UN) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ ও তদন্তের মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ায় “হামাস নেটওয়ার্ক” থাকার ভিত্তিহীন দাবি তুলে গাজা যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য এটিকে একটি সুবিধাজনক ভূ-রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সুহাস চাকমা বর্তমান পরিস্থিতিকে ৮০-এর দশকে জিয়া-উল-হকের পাকিস্তানের সাথে তুলনা করে কট্টরপন্থীদের দখলে চলে যাওয়ার যে জুজু দেখাচ্ছেন, তা ঐতিহাসিকভাবে ভুল এবং অত্যন্ত অতিরঞ্জিত একটি তুলনা। জিয়া-উল-হকের শাসনামলে পাকিস্তান ছিল একটি সামরিক স্বৈরতন্ত্র, যাকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে স্নায়ুযুদ্ধের প্রক্সি যুদ্ধে লড়ার জন্য সিআইএ (CIA) এবং সৌদি আরব সক্রিয়ভাবে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছিল। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন একটি বিশাল গণ-অভ্যুত্থান এবং ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফসল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই সফলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে এবং বর্তমানে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করছে। একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে আশির দশকের মতো রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় চরমপন্থী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সাথে তুলনা করাটা সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পেছনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং জনগণের রায়কে পুরোপুরি অস্বীকার করার একটি নির্লজ্জ অপচেষ্টা।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য ভারতকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা চরম পক্ষপাতদুষ্ট। বাংলাদেশী জনগণের মধ্যে ভারত সরকার নিয়ে বর্তমানে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা একটি জটিল ও স্বাধীন ভূ-রাজনৈতিক বিষয় এবং এটি কোনোভাবেই জন্মগতভাবে “চরমপন্থী” এজেন্ডা নয়। বিতর্কিত এবং বর্জিত নির্বাচনগুলোতে নয়াদিল্লি কর্তৃক শেখ হাসিনার সরকারকে এক দশক ধরে যে নিরঙ্কুশ রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া হয়েছে, মূলত সেখান থেকেই এই ক্ষোভের উৎপত্তি। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি যৌক্তিক ভূ-রাজনৈতিক বিরোধিতাকে “ইসলামি চরমপন্থা”র সাথে এক করে ফেলার মাধ্যমে বিশ্লেষক মূলত ঢাকার বর্তমান গণতান্ত্রিক বাস্তবতাকে অবৈধ প্রমাণের অপচেষ্টা করেছেন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষে তার শক্তিশালী প্রতিবেশীর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করাটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং এর মানে এই নয় যে রাষ্ট্রটি “সন্ত্রাসীদের দখলে” চলে যাচ্ছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে; ঢাকা যদি সত্যি আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিত, তবে এই কূটনৈতিক মহল দ্রুত তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিত।
সুহাস চাকমার মতো ভারতীয় দালালদের দ্বারা তৈরি এই ভিডিওগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো একটি স্বৈরাচার-পতনের গণতান্ত্রিক অর্জনকে কালিমালিপ্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার জন্য আগ্রাসী অপপ্রচার চালানো। এটি বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের প্রতি মানুষের গভীর আবেগপূর্ণ জনসমর্থনকে যাচাই না করা নিরাপত্তা-উদ্বেগের সাথে মিশিয়ে প্রতিবেশী ভারতের জন্য একটি আসন্ন সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার ঘৃণ্য চেষ্টা মাত্র ।
-ছায়া প্রচার’র ফেসবুক পোস্ট।