পাহাড়ি-বাঙ্গালি বিভাজন নয়, সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য- মীর হেলাল
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙ্গালি—উভয় সম্প্রদায়ের জন্য বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ি ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নকে কোনো একক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। পাহাড়ি-বাঙ্গালি নির্বিশেষে এ অঞ্চলে বসবাসকারী সকল মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সমঅধিকার এবং উন্নয়নের সুফল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে উন্নয়নকে আরও কার্যকর করতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিটি কর্মসূচিতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে উপকৃত হবে—এমন পরিকল্পনা নিয়েই সরকার কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য মাল্টিপারপাস ডরমিটরি, নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্টারলিংকভিত্তিক ই-লার্নিং সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের জটিলতা নিরসনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, আধুনিক সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা, কফি চাষ সম্প্রসারণ এবং জুমচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিকাশের অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটিতে একটি বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা, তিন পার্বত্য জেলা শহরে মাল্টিপারপাস স্পোর্টস কমপ্লেক্স, তথ্যকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ইকোট্যুরিজম, হস্তশিল্পের বাজার সম্প্রসারণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন পাহাড়ি ও বাঙ্গালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে সেই উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। সম্প্রীতি, অংশীদারিত্ব এবং সমঅধিকারের ভিত্তিতেই পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি, নারী এমপি মাধবী মারমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।