অরুণাচলে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ ভিত্তিহীন: ভারতীয় সেনাবাহিনী
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নতুন করে অনুপ্রবেশ করে সামরিক ক্যাম্প স্থাপন করেছে—এমন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানায়, “অরুণাচল প্রদেশে চীনা পিএলএর সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ এবং নতুন ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগসংবলিত কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে। এসব প্রতিবেদন ভুল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।”
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকার স্থানীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এনডব্লিউএস) জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ করে যে, ভারত-চীন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে পিএলএ সামরিক ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
গত ২৬ জুনের ওই স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করে, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে তাকসিং সার্কেল এলাকায় সীমান্ত বরাবর ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে চীনা সেনাবাহিনী। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের শিকার, গবাদিপশু চরানো এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন এলাকায় চীন সড়ক, সেতু ও সামরিক অবকাঠামো নির্মাণ করেছে।
স্মারকলিপিতে আরও দাবি করা হয়, ২০২০ সালের পর থেকে ওয়িং (Oying), পানিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোট্রাং লেক এবং টিন্ডিংটাং (টিজি)—এই পাঁচটি এলাকা চীনের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা তাকসিং সদর দপ্তরের কাছাকাছি অবস্থিত এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অরুণাচল প্রদেশ সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ওই এলাকায় চীনের আরও কোনো তৎপরতা ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংগঠনটি সীমান্ত সুরক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি আস্থা প্রকাশ করলেও, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ভারতীয় ভূখণ্ড রক্ষায় আরও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার অনুরোধ করে এবং অভিযোগের সমর্থনে কয়েকটি আলোকচিত্রও সংযুক্ত করে।
তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক কোনো চীনা অনুপ্রবেশ বা নতুন পিএলএ ক্যাম্প স্থাপনের অভিযোগ সত্য নয় এবং এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
স্থানীয় সংগঠনের স্মারকলিপি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী এই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিল।
উল্লেখ্য, ভারত-চীন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর অরুণাচল প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। ফলে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবি সামনে আসে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।