শহীদ সেনা সদস্যের এতিম সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাল সেনাবাহিনী, নির্মাণ করে দিল নিরাপদ বসতঘর

শহীদ সেনা সদস্যের এতিম সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাল সেনাবাহিনী, নির্মাণ করে দিল নিরাপদ বসতঘর

শহীদ সেনা সদস্যের এতিম সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাল সেনাবাহিনী, নির্মাণ করে দিল নিরাপদ বসতঘর
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মানবিক দায়িত্ববোধ ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রয়াত এক সেনা সদস্যের অসহায় পরিবারের জন্য নিরাপদ বসতঘর নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সেনা সদস্যের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৬৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়াত করপোরাল শরিফুল ইসলাম (ইঞ্জিনিয়ার্স ব্যাটালিয়ন)-এর স্ত্রী শারমিন আক্তারের হাতে নবনির্মিত বসতঘরের চাবি তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। সেই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতেই প্রয়াত সেনা সদস্যের পরিবারের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম বলেন, “মৃত করপোরাল শরিফুল ইসলামের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গর্বিত। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের পরিবারকে সহায়তা করা আমাদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

চাবি গ্রহণের সময় প্রয়াত সেনা সদস্যের স্ত্রী শারমিন আক্তারের আবেগঘন মুহূর্ত উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। নতুন ঘর পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বসিত ছিল তার দুই শিশু কন্যা—সুরাইয়া জান্নাত সেফা (৯) ও সাবিহা জান্নাত (৪)। এতিম দুই শিশুর হাতে নতুন জীবনের আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার দৃশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, সেনাবাহিনী সবসময় মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির স্থাপন করে আসছে। একজন প্রয়াত সেনা সদস্যের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয় নির্মাণ করে দেওয়ার মাধ্যমে বাহিনী আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা নিজেদের সদস্যদের পরিবারকে কখনো একা ফেলে রাখে না।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সদস্য এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পুনর্বাসন এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়াত সেনা সদস্যের পরিবারের জন্য নিরাপদ আবাসন নির্মাণ সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *