পার্বত্য চট্টগ্রামে বীরত্বের অমর ইতিহাস: আজ শহীদ নায়েক আফাজ উদ্দিন, বীর বিক্রমের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী
![]()
নিউজ ডেস্ক
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের সার্বভৌমত্ব, জননিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসংখ্য সদস্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছেন। তাঁদেরই একজন শহীদ নায়েক আফাজ উদ্দিন, বীর বিক্রম। অসীম সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি দেশের সামরিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের জন্ম দেন। আজ (৩ জুলাই) এই বীর সেনানির ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী।
১৯৭৮ সালে নায়েক আফাজ উদ্দিন ২০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে খাগড়াছড়ির পানছড়ি জোনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা দমনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছিল। এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে ১৯৭৮ সালের ৩ জুলাই তিনি অংশগ্রহণ করেন।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন ২০ ইস্ট বেঙ্গল থেকে একজন কর্মকর্তা, একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) এবং ৩৯ জন সেনাসদস্যের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টহল দল গঠন করা হয়। লেফটেন্যান্ট মুস্তাফা হেলালের নেতৃত্বাধীন দলটি তিনটি সেকশনে বিভক্ত ছিল। নায়েক আফাজ উদ্দিন ছিলেন ৩ নম্বর সেকশনের সেকশন কমান্ডার।
ভোর প্রায় ৪টা ৩০ মিনিটে টহল দল নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছে কৌশলগতভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নায়েক আফাজ উদ্দিন অসীম সাহসিকতার সঙ্গে শত্রুর অবস্থান করা একটি কুঁড়েঘরের দিকে অগ্রসর হন। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে তিনি তাদের পথ রোধ করেন এবং জীবনবাজি রেখে একজনকে আটক করতে সক্ষম হন।
পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে তার স্প্লিন্টারের আঘাতে নায়েক আফাজ উদ্দিন গুরুতর আহত হন। ডান বুকের নিচে মারাত্মক আঘাত ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হলেও তিনি বিচলিত হননি। বরং নিজের সাবমেশিনগান (এসএমজি) দিয়ে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে অভিযান অব্যাহত রাখেন। নিজের জীবনের চেয়ে দায়িত্ব ও মিশনের সফলতাকেই তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত পানছড়ি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হলেও সব চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে একই দিন সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। দেশের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা, অদম্য সাহস এবং কর্তব্যনিষ্ঠার সর্বোচ্চ নিদর্শন রেখে তিনি অমর হয়ে থাকেন।
এই অসাধারণ বীরত্ব, আত্মত্যাগ এবং অনুকরণীয় দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রপতি তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব “বীর বিক্রম”-এ ভূষিত করেন।
আজ তাঁর শাহাদাতবার্ষিকীতে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই বীর সেনানিকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদ নায়েক আফাজ উদ্দিন, বীর বিক্রমের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।