রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের বেড়া কেটে তৈরি হচ্ছে গোপন পথ, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা
![]()
নিউজ ডেস্ক
উখিয়ার কুতুপালং-বালুখালীসহ বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার জন্য স্থাপিত কাঁটাতারের বেড়া কেটে একের পর এক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। এসব পথ ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে অবাধে যাতায়াত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাঁটাতারের কাটা অংশ শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং ইয়াবা পাচার, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গোপন রুট হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একাধিক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কেটে মানুষের চলাচলের উপযোগী পথ তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বেড়ার নিচের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ বেড়া সরিয়ে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও এসব পথ ব্যবহার করে লোকজন ক্যাম্পে প্রবেশ ও বের হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি উখিয়া-টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইয়াবা পাচার, অস্ত্র বহন, চুরি, ডাকাতি এবং শিশু নিখোঁজের মতো ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। তাদের দাবি, অপরাধ সংঘটনের পর অনেক দুর্বৃত্ত কাঁটাতারের এসব কাটা অংশ দিয়ে দ্রুত ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য তাদের শনাক্ত ও আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু নিয়মিত তদারকির অভাব ও দুর্বল নজরদারির সুযোগে বিভিন্ন স্থানে বেড়া কেটে অবৈধ পথ তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) উখিয়া উপজেলা সভাপতি নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে। কিন্তু সেই বেড়া যদি কেটে অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি হয়, তাহলে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিষয়টি শুধু স্থানীয় নিরাপত্তার নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। অবিলম্বে কাটা অংশ মেরামত ও সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়া অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যাতায়াতের সুযোগ থাকলে ইয়াবা পাচার, অপহরণসহ নানা অপরাধ দমন কঠিন হয়ে পড়বে। শুধু বেড়া নির্মাণ করলেই হবে না, তা কার্যকরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কাটা অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন। এসব পথ বন্ধ না হলে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পের নিরাপত্তা শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, পুরো উখিয়া-টেকনাফের মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। কাঁটাতারের বেড়া কেটে যারা অবৈধ পথ তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার এবং যৌথ টহল জোরদার করা জরুরি।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে পুলিশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধ চলাচল বা অপরাধ সংঘটনের কোনো তথ্য পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছেসেন্টমার্টিন শৈবাল
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।