কর্ণফুলীতে ১২ হাজার ৭০০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ৬
![]()
নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে রাতের আঁধারে অয়েল ট্যাংকারে করে চোরাই ডিজেল কেনাবেচার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। এ সময় একটি অয়েল ট্যাংকার, ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল ও একটি পাম্প মোটর জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোররাতে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটিসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ করা হয়। পরে নৌ পুলিশ বিষয়টি জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আরিফুল ইসলাম (৩০), সাইদুল ইসলাম ওরফে ইশাদ (২২), আব্দুল হালিম (৩৫), নুরুল মোস্তফা (২৬), জালাল আহমদ (৬০) ও নুরুল আমিন (৫০)।
নৌ পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার (নৌ পুলিশ) বি. এম. নুরুজ্জামানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয়া সেনের তত্ত্বাবধানে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ‘ওটি ইশরাত’ নামের একটি অয়েল ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়ে ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, ট্যাংকারে থাকা সুপারভাইজার, মাস্টার ও অন্য কর্মীদের কাছে ডিজেলের বৈধ কাগজপত্র চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে ডিজেল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাবাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন।
অভিযানে একটি অয়েল ট্যাংকার, ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল এবং একটি পাম্প মোটরসংযুক্ত দেড় ইঞ্চি পাইপ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। জব্দ করা আলামতের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
প্রাথমিক তদন্তে নৌ পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের ঘাট এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে চোরাই ডিজেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ছয়জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও এক থেকে দুজনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানায় মামলা করেছেন। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলাম ২০১৭ সালের একটি হত্যা মামলার আসামি। এ ছাড়া আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় দুটি ডাকাতি ও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। তবে এসব তথ্য পুলিশের দাবি; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।