টানা বর্ষণে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিমি বৃষ্টিপাত; প্লাবিত সহস্রাধিক ঘরবাড়ি

টানা বর্ষণে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিমি বৃষ্টিপাত; প্লাবিত সহস্রাধিক ঘরবাড়ি

টানা বর্ষণে বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিমি বৃষ্টিপাত; প্লাবিত সহস্রাধিক ঘরবাড়ি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

টানা কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল এবং নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চলমান মৌসুমে এটি জেলার অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান শহরের শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, উজানীপাড়া ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার সাতটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

741068641_122183774258392626_3182555257680182351_n

অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। পাহাড়ধসে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে ছোট-বড় ধস নেমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী—এই তিনটি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Capture

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, অবিরাম বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *