সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় সাজেক ছাড়লেন আটকে পড়া ৪২১ পর্যটক
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সড়ক প্লাবিত হওয়ার কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং বাঘাইহাট জোনের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দুই ধাপে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) অবশিষ্ট ৪২১ জন পর্যটক নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সাজেক–বাঘাইহাট এবং খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বাঘাইহাট বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে থাকায় এবং বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় শত শত পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় বাঘাইহাট জোন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গত ৮ জুলাই থেকেই সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্টে তাদের বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হয়, যাতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তারা নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন।
আবহাওয়ার উন্নতি এবং সড়কের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে যাওয়ার পর দুই ধাপে পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপে গত গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত অবশিষ্ট ৪২১ জন পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে বাঘাইহাট হয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা করানো হয়। সেনাবাহিনীর নিবিড় তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পর্যটকদের ছোট-বড় মোট ১০১টি যানবাহনও নিয়ে আসা হয় সাজেক থেকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় আর কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।
সাজেক থেকে ফিরে আসা পর্যটকদের অনেকেই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাদের ভাষ্য, সেনাবাহিনীর সার্বক্ষণিক তদারকি, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কারণেই তারা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে গন্তব্যে ফিরতে পেরেছেন।
একাধিক পর্যটক বলেন, দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের পাশে ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের থাকা, চলাচল এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও তারা আন্তরিক ছিলেন। এজন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাঘাইহাট জোনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

স্থানীয়রাও জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা পর্যটকদের মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংকট বা জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তা প্রদান সেনাবাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।