বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র শুভত প্রভা চাকমার পাশে দীঘিনালা জোন, ঘর মেরামতে আর্থিক সহায়তা
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়া একটি হতদরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। ঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করে পরিবারটির নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপুর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য শুভত প্রভা চাকমার হাতে এ আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবারটির বসতঘর। এতে ঘরের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের কারণে নিজেদের উদ্যোগে ঘরটি মেরামত করাও পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় পরিবারটির মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর শুভত প্রভা চাকমা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে আমার ঘরটি মেরামত করে আবার বসবাসের উপযোগী করতে পারব। সেনাবাহিনীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি জনপদের অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন। বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আর্থিক সংকটের কারণে অনেক পরিবার দ্রুত তা মেরামত করতে পারে না। ফলে শিশু, নারী ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে তাদের অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে হয়। এমন সময়ে প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের সহযোগিতা হয়ে দাঁড়ায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘর পুনর্নির্মাণ বা মেরামতে এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, বরং দুর্যোগকবলিত মানুষের পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকর উদ্যোগ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পৌঁছাতে যেখানে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্ভোগ অনেকটাই কমাতে পারে।
দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা পাহাড়ি জনপদে সামাজিক সহমর্মিতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করে।
শুধু অবকাঠামো বা নিরাপত্তা কার্যক্রম নয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি বয়ে আনে। শুভত প্রভা চাকমার পরিবারও এখন সেই সহায়তা কাজে লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটি মেরামত করে আবারও নিরাপদে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।