ভারত থেকে পাঞ্জাবকে স্বাধীন করতে খালিস্তান আর্মি গঠনের ঘোষণা শিখ নেতার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারত থেকে পাঞ্জাবকে বিচ্ছিন্ন করে পৃথক খালিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘খালিস্তান আর্মি’ বা খালিস্তান সেনাবাহিনী গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। খালিস্তানপন্থী নেতা ও ‘সিকস ফর জাস্টিস’-এর প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দাবি অনুযায়ী, ভারতের বিরুদ্ধে শিখদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করার অংশ হিসেবে একটি সামরিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ দেশের সমর্থন ও সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
খালিস্তানপন্থী তৎপরতায় ‘খালিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’ নামটি এর আগেও সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি এই নামে একটি গোষ্ঠী চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব সচিবালয় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের মার্চে ‘খালিস্তান লিবারেশন আর্মি’ নামে অপেক্ষাকৃত অপরিচিত একটি সংগঠন অমৃতসরের একটি পুলিশ স্টেশনে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে বলে পোস্টার প্রচারের কথাও নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে পাঞ্জাবকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ নতুন করে সামনে এসেছে।
গুরপতবন্ত সিং পান্নুন দীর্ঘদিন ধরে ভারতের পাঞ্জাবকে আলাদা করে খালিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে করাচি প্রেস ক্লাব থেকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে তথাকথিত ‘খালিস্তান গণভোট’-এর জন্য ভারতে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথাও জানা যায়। এর আগে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থাকা শিখ সদস্যদের ভারতের হয়ে যুদ্ধ না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি পাকিস্তানকে শিখ ও খালিস্তানের জন্য ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাঞ্জাব স্বাধীন হলে পাকিস্তান প্রতিবেশী রাষ্ট্র হবে বলে দাবি করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ‘খালিস্তান আর্মি’ গঠনের ঘোষণা কার্যকর কোনো সামরিক সংগঠন তৈরির উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হলে তা পাঞ্জাবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সীমান্তবর্তী পাঞ্জাবকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা, প্রবাসী নেটওয়ার্ক এবং বিদেশি সমর্থনের সম্ভাবনা ভারতীয় নিরাপত্তা নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত নতুন এই সেনাবাহিনী বাস্তবে কতটা সংগঠিত হয়েছে, কতজন সদস্য রয়েছে, কোথায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিংবা কোনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টিকে গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের পক্ষ থেকে করা একটি ঘোষণা ও দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দাবিটির বাস্তবতা যাচাই করতে ভবিষ্যতে স্বাধীন সূত্র, নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।