মণিপুরে অস্ত্রসহ কেসিপি-তাইবাঙ্গানবা গ্রুপের ৪৬ সদস্যের আত্মসমর্পণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি)-তাইবাঙ্গানবা গ্রুপের ৪৬ সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইম্ফলের ১ম মণিপুর রাইফেলস প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘হোম কামিং সেরিমনি’তে তারা রাজ্য সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে অস্ত্র জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সংগঠনটির চেয়ারম্যানও রয়েছেন। অনুষ্ঠানে তারা ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১৬ রাউন্ড গুলি ও তিনটি বিস্ফোরক জমা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি বলেন, মণিপুরের চলমান সংকটের কারণে অনেক তরুণ রাজ্যকে রক্ষার পথ হিসেবে সশস্ত্র সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে অস্ত্রের মাধ্যমে শান্তি ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মূলধারার জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আত্মসমর্পণকারীদের স্বাগত জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৪৬ জন সদস্য ‘রিভাইজড সারেন্ডার-কাম-রিহ্যাবিলিটেশন পলিসি, ২০১৮’-এর আওতায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে পারেন।

কেসিপি-তাইবাঙ্গানবা গ্রুপের সদস্যদের মূলধারায় ফিরে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) হালনাগাদের দাবির প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার এ দাবিকে সমর্থন করে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ও মণিপুর বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন সংগঠনের ডাকা বন্ধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দাবি আদায়ে বন্ধের পরিবর্তে অন্যান্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য তিনি সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাজ্যের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।