৫ কোটি টাকার সিসিটিভি প্রকল্প, ‘কাজ না করেই বিল’: ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রশ্ন

৫ কোটি টাকার সিসিটিভি প্রকল্প, ‘কাজ না করেই বিল’: ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রশ্ন

৫ কোটি টাকার সিসিটিভি প্রকল্প, ‘কাজ না করেই বিল’: ওয়াদুদ ভূইয়ার প্রশ্ন

ফাইল ছবি- বাংলাভিশন অনলাইন।

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ি জেলা শহরে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সিসিটিভি ক্যামেরা প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে জেলা আদালত চত্বর এলাকায় হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে কার্যকর সিসিটিভি ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সহজ হতো। তাঁর অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বাস্তবে শহরে সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর উপস্থিতি নেই।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘এই ছোট্ট শহরে ৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এসব অপকর্ম করে সহজেই ধরা পড়ার কথা দুষ্কৃতিকারীদের। সিসিটিভি ক্যামেরাই নাই।’ তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন, ব্যয় এবং বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সরকারি স্থাপনার ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পরে ২২ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।

এ ঘটনার সূত্র ধরে জেলা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিসিটিভি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনে ওয়াদুদ ভূইয়া জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক পরিষদের সময়ে বাস্তবায়িত সিসিটিভি প্রকল্পের সমালোচনা করেন। তাঁর প্রশ্ন, জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যদি কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা থাকত, তাহলে অপরাধ সংঘটনের পর জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করত।

ওয়াদুদ ভূইয়া অভিযোগ করেন, সিসিটিভি প্রকল্পের ঠিকাদার রাজীব নন্দী কাজ সম্পন্ন না করেই প্রকল্পের বিল উত্তোলন করে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, রাজীব নন্দী আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের ভাগ্নে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ না করেই কীভাবে সে বিল উত্তোলন করেন?’

তিনি বলেন, শুধু সিসিটিভি প্রকল্প নয়, সাবেক পরিষদের সময়ে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও বিল পরিশোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তৎকালীন আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ঠিকাদারের নামে কাজ সম্পন্ন না হলেও কোটি কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ সময় তিনি আওয়ামী লীগের আমলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুসহ তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন ঠিকাদারের প্রকল্পের বিল পরিশোধের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় বা বিল পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে।

সাবেক পরিষদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াদুদ ভূইয়া জেলা পরিষদের নির্বাহী ও নির্বাহী প্রকৌশলীরও সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে হয়েছে কি না, কাজের মান কী এবং কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল পরিশোধ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।

তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের কাছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বিভিন্ন প্রকল্পের বিল চলে গেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পভিত্তিক বাস্তব অগ্রগতি, ব্যয়ের পরিমাণ, বিল পরিশোধের নথি এবং কাজের মান যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তাঁর বক্তব্য থেকে উঠে আসে।

মঙ্গলবারের সভায় প্রায় ২০ বছর পর জেলা পরিষদে প্রবেশের স্মৃতিও তুলে ধরেন ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জেলা পরিষদে এসে তাঁর পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ছে। একসময় তিনি এই পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে স্মরণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের প্রশংসা করে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রীসহ সরকার একটা সুন্দর পরিষদ গঠন করে দিয়েছেন বলেই আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি।’

এদিকে সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি শহরের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিসিটিভি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে সংসদ সদস্যের তোলা প্রশ্নের পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও বিল পরিশোধ নিয়ে তাঁর অভিযোগগুলোও এখন আলোচনায় এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, বাস্তব কাজের পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের হিসাব এবং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা যাচাই করা হলে প্রকল্পটির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা কতটা রয়েছে, সেটিও নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *