ত্রিপুরায় আসাম রাইফেলসের অভিযানে আড়াই কোটি টাকার গাঁজা উদ্ধার
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের ত্রিপুরায় আবারও বড় ধরনের মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য পেয়েছে আসাম রাইফেলস ও কাস্টমস বিভাগ। পশ্চিম সোনাতলা এলাকা থেকে ধাওয়া করে পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম এলাকায় একটি সন্দেহভাজন পাচারকারী গাড়ি আটক করে যৌথ বাহিনী। পরে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৫০১ কেজি শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। উদ্ধার করা গাঁজা ও গাড়িটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা এবং পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কাস্টমস ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক নজরদারির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার খোয়াই জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করে পশ্চিম সোনাতলা এলাকা থেকে সেটিকে অনুসরণ শুরু করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে পশ্চিম ত্রিপুরা ও খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী বৈকুণ্ঠপুর গ্রাম এলাকায় গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়। পরে তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন সড়ক ও আন্তঃরাজ্য রুট ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের চেষ্টা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বশেষ এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ওই অঞ্চলে মাদক পরিবহনের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে আটক গাড়ির চালক বা অন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
এর মাত্র দুই দিন আগে, গত ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার, খোয়াই জেলার মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় আসাম রাইফেলস ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ অভিযানে একটি ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ওই গাড়ি থেকে ৩৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়। এরপর ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পশ্চিম সোনাতলা থেকে ধাওয়া করে আরও ৫০১ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনা ত্রিপুরায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়টি সামনে এনেছে।
পরপর দুটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত রুটগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এসব চালানের উৎস, গন্তব্য, অর্থায়ন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু চালান আটক নয়, এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও পরিবহন নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা গেলে মাদক পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে, অভিযানে আসাম রাইফেলস ও কাস্টমস বিভাগের যৌথ উপস্থিতির কথা জানানো হলেও খোয়াই জেলা পুলিশের ভূমিকা বা সংশ্লিষ্ট অভিযানে তাদের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ মাদক পাচার সম্পর্কে অবগত ছিল না—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত করা সীমান্তবর্তী ও আন্তঃজেলা মাদক পাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।
আসাম রাইফেলস জানিয়েছে, মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং পাচারচক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সর্বশেষ চালান উদ্ধারের ঘটনায় এখন নজর থাকবে তদন্তের অগ্রগতি এবং এই বিপুল পরিমাণ গাঁজার উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করার দিকে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।