মণিপুরে গুলিতে নিহত ১, আহত ৫; কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
ভারতের মণিপুরের কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে দিনের বেলায় গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। শনিবারের (১৭ অক্টোবর) এ হামলার জন্য ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-ইসাক-মুইভা (এনএসসিএন-আইএম) সদস্যদের দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনার পর কুকি-জো অধ্যুষিত ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলোর নিরাপত্তায় অবিলম্বে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে উপজাতীয় সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটু)।
নিহত ব্যক্তির নাম সেইখোহাও হাওকিপ (৩৫)। তিনি থাংচোন হাওকিপের ছেলে এবং চাসাদ গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত ইউটিউবার ছিলেন বলেও জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চাসাদ থানার দিক থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র এনএসসিএন-আইএম সদস্যরা গ্রাম লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি নিহত হন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গুলিতে আহত পাঁচজন হলেন চাসাদ গ্রামের প্রধান থাংজাহাও হাওকিপ, ফুংথা (কাচৌফুং-কুকি) গ্রামের প্রধান সেইপাও হাওকিপ, চাসাদ গ্রাম কর্তৃপক্ষের সচিব থাংগিন থৌথাং এবং ওই কর্তৃপক্ষের সদস্য এসটি খাইলুন হাওকিপ ও সেইখোহাও। আহতদের চিকিৎসার জন্য চাসাদের নিকটবর্তী একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রতিবেশী তাংখুল সম্প্রদায়ের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে চাসাদ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত করায় গ্রামটি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসীরা বিদ্যুৎলাইন মেরামত করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকায় তাঁরা সম্ভাব্য হামলা থেকে নিরাপদ থাকবেন বলে আশা করেছিলেন।
এদিকে সাদার হিলসভিত্তিক উপজাতীয় সংগঠন কোটু এ হামলার নিন্দা জানিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, দুই গ্রামপ্রধানসহ নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ হামলা কামজং ও উখরুল জেলা থেকে কুকি-জো জনগোষ্ঠীকে বিতাড়িত করার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। হামলার জন্য তাংখুল নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং এনএসসিএন-আইএমের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দায়ী করেছে তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে জবাবদিহি এবং নৈতিকতার কথা বলা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কোটু। উখরুল, কামজং, নোনে ও তামেই এলাকার বর্তমান বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে এনএসসিএন-আইএম এবং মিয়ানমারভিত্তিক নাগা ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
কোটু সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের আন্তসম্প্রদায়িক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সহিংসতার চক্র আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাসাদসহ কামজং জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সংখ্যালঘু গ্রামগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর পরিস্থিতি, এনএসসিএন-আইএমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।