নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে থামছে না স্থলমাইন বিস্ফোরণ
![]()
নিউজ ডেস্ক
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি-মিয়ানমার সীমান্তের ৪৫-৪৭নং পিলার এলাকায় প্রতিনিয়ত স্থলমাইন বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও ১২ দিন পর উপজেলার ঘুমধুমের তুমব্রুতে মর্টার শেলের আওয়াজ ভেসে আসলো।
রবিবার (২০ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। এর আগে শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় একটি আরো একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়।
সীমান্তে বসবাসকারী একাধিক বাসিন্দা পার্বত্যনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এই বিস্ফেরণের শব্দ ২-৩ কিলোমিটার ভেতরে জামছড়ি ও জারুলিয়াছড়িতে আসলে লোকজন বলাবলি করে হয়তো গরু কারবারি বা বন্য প্রাণির পায়ে লেগে এ মাইন বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটছে। এ কারণে বারবার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
সীমান্তবাসী আরো জানান, এ সীমান্তের চাকঢালা থেকে সাপমারাঝিরি জামছড়ি, জারুলিয়াছড়ি ও ফুলতলী তথা ৪৪, ৪৫, ৪৬ ও ৪৭নং পিলার দিয়ে প্রায় প্রতিদিন আসছে বিভিন্ন গোলাবারুদ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ। বিশেষ করে স্থলমাইনের। এর আগে ছিলো মর্টার শেলের। অবশ্য শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ৪৫ নম্বর পিলারের বিপরীত থেকে ৩২টি মর্টারশেলের আওয়াজ শুনতে পান সীমান্তবাসী। এতে করে সীমান্তের চাকঢালা ফুলতলী এলাকার সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ রয়েছেন আতঙ্কে।
এ বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে নুরুল আবসার ইমন বলেন, ‘স্থলমাইন ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের ঘটনা এখন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে।’
সীমান্তের স্থলমাইন বিস্ফোরণের বিষয়ে গত শনিবার নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের ১১-বিজিবির এক অনুষ্ঠান শেষে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘সীমান্ত যেহেতু নানাভাবে উত্তপ্ত, তাই সর্বসাধারণের সীমান্তে যাওয়া কোনভাবেই উচিত না। এ ছাড়া মিয়ানমার সীমান্তে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা জারি আছে আগে থেকেই।’
এ দিকে সীমান্তের ৩৪ থেকে ৩৫ নম্বর পিলার এলাকা থেকে ১২ দিন পর আবারো মর্টার শেলের আওয়াজ শোনা গেলো। আর ডিজিএফআইয়ের স্কোয়াড্রন লিডার নিহত হওয়ার ৬ দিনের মাথায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তের একাধিক বাসিন্দা বলেন, ‘গত ১৪ নভেম্বর তুমব্রু সীমান্তে ডিজিএফআইয়ের স্কোয়াড্রন লিডারসহ ২ জনের হতাহতের ঘটনার পর তুমব্রু ও ঘুমধুমের সীমান্ত পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।’
এ বিষয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, ‘সীমান্তের অনেক ভেতরে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেলেও তার কোন প্রভাব ঘুমধুমে পড়েনি।’