রাখাইনের অনেক এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে - Southeast Asia Journal

রাখাইনের অনেক এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে

“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

থমাস কিয়ান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অনেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে জান্তা অনুগত সামরিক বাহিনী। সেই এলাকাগুলো এখন আরাকান আর্মিরা নিয়ন্ত্রণ করছে। ওই এলাকাগুলোতে রোহিঙ্গারাও আছে।

এটা মাথায় রেখে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে যে আলোচনা চালাচ্ছে, তা হচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। কিন্তু তারা দেশটিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।

জান্তা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা করতে হতে পারে আরাকান আর্মির সঙ্গে। আমাদের জানা মতে, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্য সরকারের (ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট, সংক্ষেপে এনইউজি) আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ নেই। মিয়ানমার তথা রাখাইনে পরিবর্তন শুরু হওয়ার বাস্তবতাকে আমলে নিয়েই সেখানকার নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে বাংলাদেশকে।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন হতে পারে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে যাওয়ার ছয় বছরের বেশি সময় পরও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা কমছে না। প্রতিটি মাসে তা আরো বাড়ছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসার পর থেকে এই বছরটি সবচেয়ে খারাপ যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য। আধিপত্য নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর লড়াইয়ের কারণে হত্যার ঘটনা বেড়ে গেছে।

অপরাধপ্রবণতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রিত অনেক রোহিঙ্গাই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব কম আশাবাদী। কারণ ২০১৭ সালে যারা তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল, সেই সামরিক বাহিনীই যখন মিয়ানমার শাসন করছে, তখন নিরাপদ প্রত্যাবাসন অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালাতে বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে এরই মধ্যে আন্দামান সাগর পাড়ি দিতে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকাভ্রমণের চেষ্টা করা শরণার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।

মিয়ানমারে জান্তা অনুগত সামরিক বাহিনী এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আরাকান আর্মির লড়াইয়ের মধ্যে আটকা পড়েছে রোহিঙ্গারা। সেখানকার পরিস্থিতি অনুকূল নয়।

এটি অস্বীকার করার উপায় নেই, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরকে ঘিরে বড় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। আবার রোহিঙ্গাদের ঢালাওভাবে কাজের সুযোগ এবং অবাধ চলাচলের সুযোগ না দেওয়ারও যুক্তি আছে বাংলাদেশের। ছয় বছর আগে বাংলাদেশ হয়তো ভাবেনি, আজও রোহিঙ্গারা এ দেশে থাকবে। কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে খুব শিগগিরই মিয়ানমারে বড় পরিসরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্ক্রদায়ের সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশকেও স্থানীয়দের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কাজের সুযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

থমাস কিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার ও বাংলাদেশ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরামর্শক। তিনি আইসিজির গতকাল প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংকট বাড়ছে’ শীর্ষক প্রতিবেদনের অন্যতম প্রণেতা।