পাকিস্তানকে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে ‘ব্যস্ত’ রাখতে চায় ভারত: খাজা আসিফ
![]()
নিউজ ডেস্ক
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের অভিযোগ, পাকিস্তানকে পূর্ব ও পশ্চিম দুই সীমান্তেই ব্যস্ত রাখতে চায় ভারত। শনিবার (১ নভেম্বর) জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। পাকিস্তানের পূর্বে ভারতের সঙ্গে এবং পশ্চিমে আফগানিস্তানের সীমান্ত রয়েছে। কাবুল এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন অভিযোগ করলেন তিনি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।
জিও নিউজকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যদি প্রমাণের দরকার হয়, আমাদের কাছে তা আছে— পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারত কীভাবে জড়িত এবং কীভাবে তারা আমাদের দুই ফ্রন্ট— পূর্ব ও পশ্চিমে— ব্যস্ত রাখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, মে মাসের সংঘর্ষে ভারতের পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘চুপ করে যান’ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনা যুক্তিসংগত সমাধান পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সবাই একই অবস্থানে আছে— রাজনীতিবিদ, প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব এবং পাকিস্তানের জনগণ—যে আফগানিস্তান সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার। তা হলো, আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
আসিফ বলেন, সেরা সমাধান হবে দু’দেশের মধ্যে সভ্য ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা।
গত মাসে সীমান্তে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া এবং সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান শুক্রবার ভোরে উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দ্বিতীয় দফায় তিনটি বিষয়ে সমঝোতা হয়— যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা, শান্তি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা এবং চুক্তিভঙ্গের শাস্তির ব্যবস্থা।
এই প্রক্রিয়ার কার্যকরী বিবরণ চূড়ান্ত করা হবে যখন উভয় দেশের প্রতিনিধিদল আবার বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে বসবে।
ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আলোচনাটি আসে পরিস্থিতির হঠাৎ অবনতির পর, যেখানে পাকিস্তান ৯ অক্টোবর আফগানিস্তানে পাকিস্তানপন্থী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। এর ফলে ১১ অক্টোবর সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয় এবং তা চলতে থাকে কয়েকদিন; এরপর ১৮–১৯ অক্টোবর দোহায় আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হয়। ইস্তাম্বুল চুক্তি আসে কয়েকদিনের অচলাবস্থা ও উত্তেজনার পর, এমনকি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল দেশে ফেরার প্রস্তুতিও শুরু করেছিল, তখন মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরাতে সক্ষম হয়।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে অস্বস্তিকর শান্তি বিরাজ করছে। এরপর থেকে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব— সেনাপ্রধানসহ— আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিতে থাকে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে ‘ভৌগোলিক পরিবর্তন’ ঘটার হুমকি দেয়।
অন্যদিকে দিনের শুরুতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ভারতীয় কোস্টগার্ড পাকিস্তানের এক জেলেকে আটক করে এবং তাকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
এর আগে খাজা আসিফ বলেন, ভারত আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘লো-ইনটেনসিটি যুদ্ধ’ চালাচ্ছে এবং মে মাসের সংঘর্ষে পরাজয়ের বদলা নিতে চাইছে।
‘লো-ইনটেনসিটি যুদ্ধ’ বলতে এমন সংঘাত বা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে বোঝানো হয় যেখানে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ নয় বরং সীমিত পরিসরে সামরিক অভিযান, ছোটো-খাটো সংঘর্ষ, গুপ্ত হামলা, সীমান্তে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ, ড্রোন/আর্টিলারি আক্রমণ, বিশেষ বাহিনীর অপারেশন, সাইবার আক্রমণ ইত্যাদি চলে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।