মণিপুরে মেইতেই যুবক হত্যার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি, ভারত–মিয়ানমার সড়ক অবরোধ
![]()
নিউজ ডেস্ক
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে এক মেইতেই যুবককে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কাকচিং জেলার কাকচিং খুনৌ এলাকার বাসিন্দারা চুরাচাঁদপুরে সংঘটিত ওই ঘটনার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারত–মিয়ানমার সংযোগকারী সুগনু সড়ক অবরোধ করেন। নিহত যুবক মায়াংলাম্বম রিশিকান্ত সিংকে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা ‘নৃশংসভাবে হত্যা’ করেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সড়ক অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান। পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে শিগগিরই একটি গণসভা আয়োজনের ঘোষণাও দেন তারা।
পরিবারের করা অভিযোগ অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী রিশিকান্ত সিং কাকচিং জেলার কাকচিং খুনৌ উচান মাখং লেইকাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি এম. টোম্বি সিংয়ের ছেলে এবং চুরাচাঁদপুর জেলার তুইবং (তুইবুয়াং) গ্রামের বাসিন্দা চিংনু হাওকিপের স্বামী। অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ জানুয়ারি তাকে অপহরণ করা হয় এবং পরে চুরাচাঁদপুর জেলার একটি এলাকায় হত্যা করা হয়।
পরিবার সূত্র জানায়, রিশিকান্ত সম্প্রতি নেপাল থেকে ফিরে স্ত্রীসহ চুরাচাঁদপুরে বসবাস করছিলেন। গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে তারা সেখানে একসঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তারা প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন, যেখানে রিশিকান্তকে হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পরে তার স্ত্রী ফোন করে অপহরণ ও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরিবারের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, রিশিকান্ত একজন কুকি নারীকে বিয়ে করেছিলেন এবং জাতিগত সহিংসতা শুরুর আগ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সহিংসতা শুরু হওয়ার পর যোগাযোগ অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
রিশিকান্তের স্ত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনজন অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের বাসায় এসে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে একটি চারচাকা গাড়িতে করে দুজনকে একটি নির্জন এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হলেও রিশিকান্তকে কাছের একটি পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, নিহতের স্ত্রী হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ঘটনার পর ওয়াইখং থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি–জো জনগোষ্ঠীর মধ্যে চলমান জাতিগত সহিংসতার জেরে রাজ্যটির বিভিন্ন এলাকায় বারবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।