জোরহাটে বনভূমি দখলের অভিযোগে আসাম–নাগাল্যান্ড সীমান্তে ফের উত্তেজনা

জোরহাটে বনভূমি দখলের অভিযোগে আসাম–নাগাল্যান্ড সীমান্তে ফের উত্তেজনা

জোরহাটে বনভূমি দখলের অভিযোগে আসাম–নাগাল্যান্ড সীমান্তে ফের উত্তেজনা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের আসাম–নাগাল্যান্ড সীমান্তে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আসামের জোরহাট জেলার মারিয়ানি এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমি পুনরায় দখলের অভিযোগ উঠায় সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মারিয়ানি নিউ সোনোয়াল রেঞ্জ বন বিভাগের কার্যালয় থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে সংরক্ষিত বনভূমি প্রকাশ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। ডিসোই ও তিরু পাহাড় এলাকায় ব্যাপক বন উজাড়ের পর এবার ডিসোই ভ্যালি রিজার্ভ ফরেস্টের একটি অংশে নাগা বসতকারীরা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। ওই এলাকায় মূল্যবান গাছ কেটে অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বন বিভাগের কার্যালয় থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরেই জমি দখল হচ্ছে, অথচ প্রশাসন যেন অসহায় দর্শকের ভূমিকায়। আমাদের চুপচাপ সবকিছু দেখতে বাধ্য করা হচ্ছে।” তিনি এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ দখল ও ব্যাপক বন ধ্বংসের বিষয়টি বারবার জানানো হলেও বন বিভাগ কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে। কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না থাকার কথা বলে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে দাবি করা হয়েছে। আরেক বাসিন্দা বলেন, “বিষয়টি ওপর মহলে জানানো হয়েছে—এই কথাই বারবার শোনা যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।”

এলাকাবাসীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে আসামের সংরক্ষিত বনভূমি দখলের অভিযোগ উঠে আসছে। দখলকৃত এলাকায় বসতি স্থাপন ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকা রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। ডিসোই ভ্যালি ও তিরু পাহাড় এলাকার বড় অংশ ইতোমধ্যে দখল হয়ে সেখানে রাবার ও চা বাগান গড়ে উঠেছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব এলাকা পুনরুদ্ধারে আসাম সরকারের উদ্যোগ কার্যকরভাবে অগ্রসর হয়নি বলেও তারা দাবি করেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মারিয়ানির সেউজি গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নাগাল্যান্ড প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিতর্কিত এলাকার ভেতরে ভূমি জরিপ চালিয়েছিলেন, যা নিয়ে ডিসপিউটেড এরিয়া ব্লকে (ডিএবি) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলেও জোরহাট জেলা প্রশাসন বা মারিয়ানি পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।

জোরহাটের সীমান্তবাসীদের কাছে এ ধরনের উত্তেজনা নতুন নয়। গত জুন মাসেও নাগাল্যান্ড থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা আসামের জমি দখল, সংরক্ষিত বনভূমি পরিষ্কার এবং বসতি ও রাবার বাগান স্থাপনের অভিযোগ ওঠে, যা নতুন করে আতঙ্ক ছড়ায়। নাগাজাঙ্কা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, আসামের স্থানীয়দের চাষাবাদ করা কৃষিজমি দখল করে নাগা সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে রাবার বাগান স্থাপন করেছে।

প্রসঙ্গত, আন্তঃরাজ্য আলোচনা ও আদালতের তত্ত্বাবধানে সীমান্ত চুক্তি থাকলেও বাস্তব পর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ না হওয়ায় আসাম–নাগাল্যান্ড সীমান্ত এলাকার মানুষ বারবার দখল ও সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।