আসামে নির্বাচনের আগে বিজেপির ‘হাতিয়ার’ বাংলাদেশি ইস্যু
![]()
নিউজ ডেস্ক
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মুসলিমবিরোধী মন্তব্যের বিরুদ্ধে ভারতে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। এই উত্তাপের মধ্যেই একই সুরে এবার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচনী সময়ের চাপ সামলাতে তিনি সরাসরি ‘বাংলাদেশি ইস্যু’কে ব্যবহার করেছেন। অনুপ্রবেশের দায় কংগ্রেসের ওপর চাপিয়ে অমিত শাহ বলেন, এ সমস্যা রোধ করতে হলে বিশ্ব শর্মার সরকার ছাড়া বিকল্প নেই।
মাস দু’য়েক পরই আসামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের প্রভাব বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাইই তৎপর হয়ে রাজ্য সরকার মুসলিম ভোটারদের তালিকা থেকে ৪-৫ লাখ ভোটার বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এতে ভোট বন্টন ও জনসংখ্যাগত সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
এছাড়া সম্প্রতি বিশ্ব শর্মা এমন মন্তব্য করেছেন যে, মুসলমানদের বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া উচিত। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-প্রদর্শন হয়েছে।
তবুও, বিক্ষোভ-প্রতিবাদের মাঝেই অমিত শাহের বক্তব্যে একই ন্যারেটিভ দেখা গেছে। বিশ্ব শর্মার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে তিনি মুসলিমদের ইঙ্গিত করে বলেন, অনুপ্রবেশ রোধ করতে হলে বিজেপিকে শক্তিশালী করে ভোট দিতে হবে। অনুপ্রবেশের জন্য দায় চাপিয়ে দেন বিরোধী কংগ্রেসের ওপর।
অমিত শাহ আরও বলেন, আসামের সাত জেলায় প্রায় ৬৪ লাখ অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছে। বিজেপি এই সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০ বছরের কংগ্রেস শাসনে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে, ফলে রাজ্যের জনসংখ্যার কাঠামো বদলে গেছে। তিনি দাবি করেন, এখন ওই সাত জেলায় অনুপ্রবেশকারীরা সংখ্যাগুরু অবস্থানে পৌঁছেছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচলের সীমান্তের কাছাকাছি আসামের ধেমাজি জেলায় শুক্রবার এক সভায় অমিত শাহের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে, ভোট জেতার জন্য বিজেপি বাংলাদেশি ইস্যুকে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। কংগ্রেসকে বারবার নিশানা করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ, তাই বিজেপিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে হবে।
অমিত শাহ বলেন, ‘আমি এটা কখনোই বলছি না যে, সাধারণ মানুষকেও অস্ত্র হাতে সীমান্তে যেতে হবে। আপনাদের হয়ে সেই কাজটা করবে বিশ্ব শর্মার সরকার। আপনারা চিন্তা করবেন না।’
তিনি আরও বলেন, অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চাইলে ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। যদি আপনারা আসামে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চান, তাহলে বিজেপিকে ভোট দিন। তৃতীয়বারের জন্য এখানে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ব শর্মার হাত শক্তিশালী করুন।
আগামী মার্চ–এপ্রিলের মধ্যে আসামে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গত দুইবারের মতো এবারও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে বিজেপি। অনুপ্রবেশ ইস্যুকে ঘিরে গত নির্বাচনে যে রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে উঠেছিল, এবারও একই কৌশলে গেরুয়া শিবির ভোটের বৈতরণী পেরোনোর পরিকল্পনা করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।