রাশিয়া থেকে ২৮৮টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত, অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল
![]()
নিউজ ডেস্ক
রাশিয়া থেকে ২৮৮টি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত ‘প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন (এওএন)’ অনুমোদন দিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল (ডিএসসি)। এতে ব্যয় হবে ১০ হাজার কোটি রুপি।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা।
গত বছরের নভেম্বরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস প্রথম জানিয়েছিল, অপারেশন সিঁদুর চলাকালে ব্যবহার করা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় ভরাট করতে এবং দীর্ঘ-পাল্লা ও স্বল্প-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার সিস্টেম বাড়াতে ভারত সরকার এসব ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এওএন অনুমোদনের মাধ্যমে ১২০টি স্বল্প-পাল্লার ও ১৬৮টি দীর্ঘ-পাল্লার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পথ খুলে গেলো। দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগুলো কেনা হবে বলে হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তারা আরও জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন ও নভেম্বর মাসে ভারত এরই মধ্যে চুক্তিবদ্ধ আরও দুই সেট এস-৪০০ সিস্টেম পাবে।
এদিকে, ভারতের বিমানবাহিনী আরও পাঁচটি অতিরিক্ত এস-৪০০ সিস্টেম কেনার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে, সঙ্গে প্যান্টসির স্বল্প-পাল্লার সিস্টেমও। রুশ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সশস্ত্র ড্রোন ও কামিকাজে ড্রোন প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এস-৪০০ ও প্যান্টসির একসঙ্গে যুক্ত করে দুই-স্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা সীমান্তপারের আকাশপথে আসা যে কোনো লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করতে সক্ষম।
ভারতের প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পদ্ধতিতে কঠোর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুমোদন কাঠামো রয়েছে। এটি শুরু হয় ‘স্টেটমেন্ট অব কেস’ দিয়ে, যেখানে উল্লেখ থাকে অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা ও কেনাকাটার যৌক্তিকতা। এরপর তা পর্যালোচনা করে ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ড, যার সভাপতি প্রতিরক্ষা সচিব। পরে তা অনুমোদনের জন্য ডিএসসিতে পাঠানো হয়। এখান থেকে এওএন মিললে বিক্রেতার সঙ্গে বিস্তারিত মূল্য আলোচনা হয়। তারপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনুমোদন আসে। সবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (সিসিএস) চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রায় ৩ দশমিক ৬০ লাখ কোটি রুপি মূল্যের বিভিন্ন প্রস্তাবে এওএন দিয়েছেন। বিমানবাহিনীর (আইএএফ) জন্য অনুমোদন পেয়েছে মাল্টি–রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট (এমআরএএফএ), রাফালে, কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র ও এয়ারশিপভিত্তিক হাই–অ্যাল্টিটিউড সুডো–স্যাটেলাইট।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য অনুমোদন পেয়েছে অ্যান্টি–ট্যাঙ্ক মাইন (বিভব) ও আর্মার্ড রিকভারি ভেহিকল (এআরভি), টি–৭২ ট্যাংক ও বিএমপি–২ যুদ্ধযানের ওভারহলিং। নৌবাহিনীর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৪ মেগাওয়াট মেরিন গ্যাস টারবাইন–ভিত্তিক ইলেকট্রিক পাওয়ার জেনারেটর ও পি–৮আই লং রেঞ্জ মেরিটাইম রিকনাইসেন্স এয়ারক্রাফট।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।