৯ হাজারের বেশি বন্দির সাধারণ ক্ষমা: মুক্তি পেলেন এনএলডির শীর্ষ নেতারা, কারাগারেই সু চি
![]()
নিউজ ডেস্ক
মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা সোমবার ২০২১ সালে উৎখাত করা নির্বাচিত ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে। ৯ হাজারের বেশি বন্দির জন্য ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার অংশ হিসেবে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে গণতন্ত্রের প্রতীক দাও অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উ উইন মিন্ট এবং এনএলডির অন্যান্য শীর্ষ নেতা এখনো কারাগারেই রয়েছেন। জান্তা সরকার ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত নির্বাচনের পর বেসামরিক চেহারায় নিজেদের পুনঃব্র্যান্ডিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন।
সোমবারের সাধারণ ক্ষমা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দণ্ডিত ৭ হাজার ৩৩৭ জন রাজনৈতিক বন্দিকে অন্তর্ভুক্ত করে। জান্তা সরকার ক্ষমতা দখলের বিরোধিতাকে অপরাধ হিসেবে দেখাতে এই আইন ব্যবহার করে আসছে। তবে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৩টি কারাগারের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। একই আইনে অভিযুক্ত ১২ হাজার ৪৮৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের কথাও জান্তা জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বন্দিদের জন্য এ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর, আগামী ১৬ মার্চ সামরিক প্রাধান্যাধীন নতুন পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসার কথা রয়েছে।
নির্বাচিত এনএলডি আইনপ্রণেতা উ বো বো উ জানান, সোমবার মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উ মিন থু এবং নেপিদোর সাবেক মেয়র ও এনএলডির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মিয়ো আউং।
ডা. মিয়ো আউংকে রাষ্ট্রবিরোধী বা “জনশৃঙ্খলা বিনষ্টে” উসকানির অভিযোগসহ একাধিক মামলায় ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। উ মিন থুর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন আইনে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এছাড়া এনএলডির সাবেক দুই ইয়াঙ্গুন আঞ্চলিক মন্ত্রীও সোমবার মুক্তি পেয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন ও মানবসম্পদবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী দাও মো মো সু কিই এবং কৃষিবিষয়ক সাবেক মন্ত্রী উ হান তুন ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগার থেকে মুক্তি পান।
সাবেক ম্যাগওয়ে পার্লামেন্ট স্পিকার উ তারও মুক্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন উ বো বো উ।
তবে পলিটিক্যাল প্রিজনার্স নেটওয়ার্ক মিয়ানমার (পিপিএনএম)-এর কো থাইক তুন উ বলেন, এই গণমুক্তি কোনো সদিচ্ছার ফল নয়। তার ভাষায়, “আসিয়ান ও বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন এবং আসন্ন সামরিক-নেতৃত্বাধীন পার্লামেন্ট ও প্রশাসনের আগে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার লক্ষ্যে জান্তার এটি একটি কৌশল।”
সোমবার বেশ কয়েকজন পরিচিত ছাত্রনেতাও মুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইস্ট ইয়াঙ্গুন ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মা সু ইয়ে লিন, যিনি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন। তার সঙ্গে একই আইনে দণ্ডিত তার বোন মা সু মিয়াত হ্তেত ও তাদের খালা দাও নিই মো হ্লাইংও মুক্তি পেয়েছেন।
মুক্তিপ্রাপ্ত অন্যান্য ছাত্রনেতার মধ্যে রয়েছেন ইয়াঙ্গুন ইকোনমিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কো হ্তেত পাইং সোয়ে এবং মা নোয়াই ইয়াতি সোয়ে।
সাংবাদিকদের মধ্যেও সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমার প্রেসফটো এজেন্সির (এমপিএ) ভিডিওগ্রাফার মা হ্মু ইয়াদানার খেত মো মো তুন। ২০২১ সালে ইয়াঙ্গুনের কিইমিইনটাই টাউনশিপে অভ্যুত্থানবিরোধী সমাবেশ কাভার করার সময় একটি সামরিক যানবাহন তার ওপর উঠে গেলে তিনি আহত ও পরে গ্রেপ্তার হন।
তবে গণমুক্তির সঙ্গে শর্ত জুড়ে দিয়েছে জান্তা। তারা সতর্ক করেছে, মুক্তিপ্রাপ্ত কেউ পুনরায় অপরাধে জড়ালে নতুন শাস্তির পাশাপাশি পূর্বের সাজাও ভোগ করতে হবে।
সোমবার ১০ জন বিদেশিকেও মুক্তি দিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এএপিপির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শাসনামলে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার ৫৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ৮১৮ জন এখনো কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী দাও অং সান সু চি, যিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত।
প্রসঙ্গত, ব্যাপক সমালোচনা ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জান্তার এই গণমুক্তি রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বার্তা দিলেও, দেশের শীর্ষ গণতান্ত্রিক নেতাদের কারাবন্দি অবস্থান পরিস্থিতিকে এখনও অমীমাংসিত রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।