ভারতে বজরং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এক মুসলিম যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

ভারতে বজরং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এক মুসলিম যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

ভারতে বজরং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এক মুসলিম যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

রাজস্থানের ভিওয়াদি এলাকায় ২৮ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত যুবকের নাম আমির (২৮), যিনি হরিয়ানার পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দাবি, ‘গো-পাচারকারী’ সন্দেহে জঙ্গি সংগঠন বজরং দলের সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা হতে পারে, যার প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে আলওয়ার জেলার চোপানকি থানা এলাকায়। পুলিশের দাবি, ভোররাতের দিকে খবর আসে যে, একটি পিকআপ ট্রাকে করে গবাদি পশু পাচার করা হচ্ছে এবং কিছু লোক সেটিকে তাড়া করছে। সারে কালা গ্রামের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। সেখানেই আমির গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ও পাঁচটি গবাদি পশু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত আমিরের পরিবারের দাবি, তিনি নির্দোষ এবং পেশায় চালক ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যক্তির নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমিরের এক আত্মীয় ইয়াহিয়া খান বলেন, “সে কোনো গবাদি পশু পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। সে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। ১৫-২০ জন লোক তিনটি গাড়ি নিয়ে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। চোখের নিচে গুলির আঘাত লেগেছে তার।” এই ঘটনায় বজরং দলের কর্মীদের সরাসরি দায়ী করেছেন তারা। ঘটনার প্রতিবাদে থানা এলাকায় ভিড় জমিয়ে বিক্ষোভও দেখান নিহতের আত্মীয়রা।

ভিওয়াদির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) কৈলাস চৌধুরী জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, “পিকআপ ভ্যানটিতে পাথর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছিল। তবে আমিরের মৃত্যুর কারণ—গুলি নাকি সংঘর্ষে পাওয়া আঘাত—তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক রিপোর্টের পরই নিশ্চিত করা যাবে।”

ইতিমধ্যেই একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজস্থানে ‘গো-রক্ষক’ বাহিনীর হাতে এ ধরনের মৃত্যুর অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে ২০১৭ সালে পেহলু খান, ২০১৮ সালে রাকবার খান এবং ২০২৩ সালে জুনায়েদ ও নাসেরের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নাগরিক অধিকার কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়া এবং আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন সামনে এসেছে।পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং আশ্বস্ত করেছে যে, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।