একনেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩,৬৬৬ কোটি টাকার সীমান্ত সড়ক প্রকল্প, নিরাপত্তা ও যোগাযোগে বড় পরিবর্তনের আশা
![]()
নিউজ ডেস্ক
নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের সভাপতি তারেক রহমান।
সভায় উপস্থাপনযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প একনেকে অবহিত করার জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত সীমান্ত সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছরেই এর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা এবং বান্দরবান জেলা-এর বিভিন্ন দুর্গম সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে পানছড়ি, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাইছড়ি, বিলাইছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলাজুড়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ৫৪০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।
পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, দ্রুত নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা এবং কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপদ ও আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে কাজের জন্য আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে ২৭২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার নমনীয় পাকা সড়ক এবং ১৪ দশমিক ০৩ কিলোমিটার অনমনীয় পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শুধুমাত্র সড়ক নির্মাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল, হাসপাতাল, পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগারসহ মোট ৩৬টি সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং নিরাপত্তা, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।