মিয়ানমারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, জাতিসংঘে তদন্ত দাবি

মিয়ানমারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, জাতিসংঘে তদন্ত দাবি

মিয়ানমারে ড্রোন হামলার অভিযোগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, জাতিসংঘে তদন্ত দাবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পরিষদ (ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড-ইয়ং আউং) NSCN-Yung Aung (এনএসসিএন-ওয়াইএ) ভারতের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নাগা বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে ‘বিমান ও ড্রোন হামলা’ চালানোর অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে (UN Human Rights Council) এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির মুখপাত্র কর্নেল (অব.) জোসেফ এক প্রেস বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারতের সরকার এবং তার সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগা অঞ্চলে হুমকি ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা উদ্বিগ্ন।

এনএসসিএন-ওয়াইএ দাবি করেছে, গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মিয়ানমারের নাগা স্বশাসিত অঞ্চলের খামমই গ্রামে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যা নাগা জনগণের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক অভিযান’-এর অংশ।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে এবং ঘরবাড়ির ভেতরেও তারা নিরাপদ নয়।

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ও কঠোর আইন যেমন সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) এবং অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) ব্যবহার করে নাগা আন্দোলনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

এনএসসিএন-ওয়াইএ বলেছে, ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হত্যার অভিযোগ রয়েছে, যা তাদের মতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথিত ‘অবৈধ কার্যক্রম’-এর চেয়েও বেশি গুরুতর।

তারা দাবি করেছে, ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (ICCPR)-এর স্বাক্ষরকারী এবং সম্প্রতি ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছে, যা এ পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারত নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষাকারী হিসেবে উপস্থাপন করলেও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও কাশ্মীরে নিয়মিত সহিংসতা, নির্যাতন ও জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, এসব পরিস্থিতি ভারতকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ধাবিত করছে’ এবং মানবাধিকার পরিষদের সদস্যপদ ধারণের উপযুক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এনএসসিএন-ওয়াইএ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং ভারতের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো যেন ভারতের মানবাধিকার রেকর্ড পুনর্মূল্যায়ন করে।

সংগঠনটি শেষ অংশে বলেছে, আন্তর্জাতিক সমর্থন না থাকলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও মিয়ানমারের ‘ঔপনিবেশিক শক্তির’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের ‘স্বাধীনতার লড়াই’ অব্যাহত রাখবে। তারা দাবি করে, কোনো চাপ বা সামরিক শক্তির কাছে তারা মাথা নত করবে না এবং নাগা জনগণের অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed