মিয়ানমারে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান বিদ্রোহীদের, রাজনৈতিক সমাধান অনিশ্চিত

মিয়ানমারে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান বিদ্রোহীদের, রাজনৈতিক সমাধান অনিশ্চিত

মিয়ানমারে শান্তি আলোচনার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান বিদ্রোহীদের, রাজনৈতিক সমাধান অনিশ্চিত
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার আগামী ১০০ দিনের মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিলেও দেশের প্রধান কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক সরকারি বৈঠকে জানান, যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনায় অংশ নেয়নি, তাদের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সংলাপে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “যেসব গোষ্ঠী এখনো আলোচনায় আসেনি, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।”

সরকারের এই আহ্বানে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং অল বার্মা স্টুডেন্টস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টসহ কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়।

তবে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের মুখপাত্র সাও তাও নি বলেন, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে এসেছে এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।

অন্যদিকে চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের মুখপাত্র সালাই হটেট নি বলেন, তারা একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে, যেখানে সামরিক বাহিনীর কোনো ভূমিকা থাকবে না। তাই বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমার ভয়াবহ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। ওই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন মিন অং হ্লাইং।

অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি-কে একাধিক মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক মহল ও তার সমর্থকদের মতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সম্প্রতি তার সাজা কিছুটা কমানো হলেও তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুতে বিতর্কিত এক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়, যা পশ্চিমা দেশগুলোসহ বহু পর্যবেক্ষক প্রহসনমূলক নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর এই প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে যে মিয়ানমারে রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনো অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘ। সামরিক প্রভাবমুক্ত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে না উঠলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *