মিজোরামে শান্তি প্রক্রিয়া অংশ হিসেবে কাল অস্ত্র সমর্পণ করতে যাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৩ সদস্য

মিজোরামে শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাল অস্ত্র সমর্পণ করতে যাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৩ সদস্য

মিজোরামে শান্তি প্রক্রিয়া অংশ হিসেবে কাল অস্ত্র সমর্পণ করতে যাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৩ সদস্য
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির অংশ হিসেবে হমার পিপলস কনভেনশন (ডেমোক্রেটিক)–এর লালহমিংথাঙ্গা সানাতে নেতৃত্বাধীন অংশের ৪৩ জন সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করতে যাচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিল এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই ‘হোমকামিং অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হবে আইজল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সেসাওং এলাকায় অবস্থিত পুলিশ সেন্ট্রাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে।

এতে উপস্থিত থাকবেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে সাপদাঙ্গা।

কর্মকর্তারা জানান, ১৪ এপ্রিল রাজ্য সরকার ও এইচপিসি(ডি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির পর এই অস্ত্র সমর্পণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে মিজোরামে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিদ্রোহ কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই গোষ্ঠীর তৎপরতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল, তবে সানাতে নেতৃত্বাধীন অংশটি রাজ্যের শেষ সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হতো এবং হমার-অধ্যুষিত এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল।

চুক্তিটি আইজল জেলার সাকরাওয়াদাইয়ে স্বাক্ষরিত হয়, যা সিনলং হিলস কাউন্সিল (এসএইচসি)-এর সদর দপ্তর। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হমার-অধ্যুষিত অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

এইচপিসি(ডি) তাদের দাবির মধ্যে এসএইচসি’র প্রশাসনিক পুনর্গঠন, সাকরাওয়াদাইয়ে উন্নয়ন ও কৃষি অফিস স্থাপন এবং ২০২৭–২৮ অর্থবছর থেকে বার্ষিক বাজেট বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি সিকপুই রুইউ উৎসব এবং হমার শহীদ দিবসকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, এসএইচসি উত্তর ও উত্তর-পূর্ব মিজোরামের ৩১টি গ্রাম নিয়ে গঠিত, যা আসাম ও মণিপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এটি ২০১৮ সালের পূর্ববর্তী একটি শান্তি চুক্তির পর গঠিত হয়, যেখানে অন্য একটি এইচপিসি(ডি) অংশ শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিল। বর্তমান চুক্তিকে সেই ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিতে উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

গোষ্ঠীটির এক নেতা জানান, বর্তমান জোরাম পিপলস মুভমেন্ট সরকার দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ক্যাডারদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, মিজোরামে দীর্ঘদিন ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতের অবসানে এই ঘটনা একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *