পাহাড় ও সমতলে সমানভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

পাহাড় ও সমতলে সমানভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

পাহাড় ও সমতলে সমানভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে: সংস্কৃতি মন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

সংসদ প্রতিবেদক

পাহাড় ও সমতলের সংস্কৃতিকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম বাজেট অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সদস্য মাধবী মারমা তার প্রশ্নে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বান্দরবানে প্রতিষ্ঠিত ট্রাইবাল কালচারাল ইনস্টিটিউট, যা বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত, সেখানে পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও ভাষা চর্চার কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত ও ধীরগতির। এসব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা তা জানতে চান তিনি।

জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সরকার পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে একই গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নৃত্য, সংগীত, পোশাক ও জীবনধারা সংরক্ষণ এবং বিকাশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, লোকসংগীত, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যকলার বিকাশে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, “আমরা পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ও অভিন্ন জাতীয় সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি।”

বিএনপি সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে কখনোই আলাদা দৃষ্টিতে দেখে না উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “পাহাড় আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাহাড় ও সমতলের জনগণ একই জাতীয় সত্তার অংশ। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অবদান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ের ইতিহাস, সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই সরকার সকল জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”

সংসদে এ সময় পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *