চুক্তির পরদিনই লেবাননে ইসরাইলের হামলা, রূপরেখা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর
![]()
নিউজ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলেরর মধ্যে স্বাক্ষরিত রূপরেখা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
লেবাননের সঙ্গে শান্তিচুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে নেতানিয়াহু বাহিনী।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, হামলার স্থানটি নিরাপত্তা অঞ্চলের বাইরে, যেটি নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থলসেনা না থাকায় ড্রোন ব্যবহার করে এমন একজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
শনিবার এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে পঞ্চম দফার আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে রূপরেখা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন হিজবুল্লাহ প্রধান।
নাঈম কাশেম বলেন, ‘এই চুক্তি পুরোপুরি অবৈধ ও অকার্যকর। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রস্তাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। হিজবুল্লাহপ্রধান বলেন, ‘এ ধরনের পদক্ষেপ লেবাননকে শত্রু ইসরাইলের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যেতে পারে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর শনিবার (১৭ জুন) দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই ফ্রেমওয়ার্ক সমঝোতা দুই দেশের সংঘাতের অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরাইলের উপস্থিতি বজায় রাখার অধিকার স্বীকার করেছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি নিয়ে ইরান ও হিজবুল্লাহর হতাশা এবং সমালোচনাও শুনেছেন আপনারা। এই চুক্তির মাধ্যমে লেবানন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র মূলত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে লেবাননে ইরান বা হিজবুল্লাহর মত সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো অবস্থান, কোনো সম্পৃক্ততা বা কোনো ভূমিকা নেই।
ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) চুক্তি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা পরই চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
চুক্তিতে ‘ধাপে ধাপে এগোনোর প্রক্রিয়া’ (সিকুয়েন্সড প্রোসেস)-এর কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ডে কার্যকর সার্বভৌম কর্তৃত্ব’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে — তবে তা নির্ভর করবে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর (স্পষ্টত হিজবুল্লাহ) যাচাইকৃত নিরস্ত্রীকরণের ওপর।
শুধুমাত্র তখনই ইসরাইল লেবানন থেকে ‘ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার’ করবে। চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রথম ধাপে লেবানিজ সেনাবাহিনী ‘ধাপে ধাপে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব’ গ্রহণ করবে।
চুক্তির ভাষ্য অনুসারে, ‘এসব পাইলট জোনে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সফল নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর লেবানিজ সেনাবাহিনী সেখানে পূর্ণ ও কার্যকর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করবে, আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হবে এবং লেবানিজ নাগরিকরা লেবানিজ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের একক নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে সেসব এলাকায় ফিরে যেতে পারবেন।’
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।