পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের

পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের

পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপপ্রচার, চাঁদাবাজি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

নিউজ ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর দেশবিরোধী অপপ্রচার, খুন, গুম এবং চাঁদাবাজির প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে একটি বিশেষ অর্ধ-বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ’।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা-২০২৬” শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মাঠপর্যায়ের নির্মম বাস্তবতার সবিস্তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, উপজাতি ও বাঙালি নির্বিশেষে পাহাড়ের নিপীড়িত সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবর্ণনীয় জুলুম-নিপীড়ন উন্মোচন করাই এই প্রতিবেদনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ে শান্তি ও উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাধারণ ব্যবসায়ী, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে জিম্মি করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে, যা মূলত তাদের অস্ত্রের মজুদ বাড়ানোর মূল উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই চলমান সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে পাহাড়ের নিরীহ নারী ও শিশুরা।

মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পার্বত্য এলাকায় প্রতি বছর গড়ে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংঘাতের নিষ্ঠুর শিকার হচ্ছেন।

বিগত ছয় মাসের (জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬) পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন পার্বত্য জেলায় উপজাতি সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক রাজনৈতিক জবরদস্তি ও ভিন্নমত দমনের ঘটনা ঘটেছে ৮২টি। এই সময়ের মধ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছে ১৮টি ঘটনায় এবং বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে আনুমানিক ১২টি।

পাহাড়ে গত ছয় মাসে উপজাতি সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন আনুমানিক ১৬ জন নিরীহ নাগরিক। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ২৫টি অপহরণের ঘটনায় প্রায় ৭৫ জন সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে গত ছয় মাসে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে আনুমানিক ৩৬৫ জন উপজাতি সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের সময় সেদেশের বিএসএফ ও পুলিশের হাতে ২৩ জন পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী আটক হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পার্বত্য শান্তিচুক্তির অসাংবিধানিক ধারাসমূহ অবিলম্বে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার হরণকারী এবং বৈষম্য সৃষ্টিকারী সকল বিতর্কিত রেজুলেশন, প্রবিধান ও আইনের কার্যকারিতার যৌক্তিকতা পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল  কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed