পাহাড়িদের দক্ষ মানবসম্পদে গড়ে তুলতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগ: লামায় টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু
![]()
নিউজ ডেস্ক
পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট। কারিগরি শিক্ষার প্রসার, যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে গৃহীত এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) লামা উপজেলায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং লামা ম্রো কমপ্লেক্স পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মইন উদ্দিন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, কারিগরি দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট সেই উদ্যোগেরই একটি বাস্তব রূপ, যা ভবিষ্যতে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর আলীকদম জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জোন অধিনায়ক বলেন, একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলাই এই ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
পরে প্রধান অতিথি লামা ম্রো কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌজন্য মতবিনিময় করেন এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব ছিল। নতুন এই টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট চালু হওয়ায় এলাকার তরুণ-তরুণীরা এখন নিজ এলাকায় থেকেই কম্পিউটার, সেলাইসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর ফলে তাদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং অনেকেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবিক সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের যাত্রা সেই ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমেরই আরেকটি উজ্জ্বল সংযোজন।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ, মানবিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, লামা টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলের দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।