ত্রাণ ও খাবার যতদিন প্রয়োজন, ততদিন দেওয়া হবে- রাঙামাটিতে দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী
![]()
নিউজ ডেস্ক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এমপি বলেছেন, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যতদিন প্রয়োজন ততদিন ত্রাণ ও খাবার সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন হলে তিন মাসও সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার তা করবে।
শনিবার (১১ জুলাই) রাতে রাঙামাটির কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও বন্যায় পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের নিজস্ব জায়গা রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে আপাতত চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
পাহাড়ধসের কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হাজার হাজার বছর আগে এভাবে পাহাড় ধসে পড়ত না। এখন মানুষের বিভিন্ন অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা বাড়ছে। নির্বিচারে গাছ কাটা এবং পাহাড় কেটে মাটি অপসারণের মতো কর্মকাণ্ডই এ ধরনের দুর্যোগের অন্যতম কারণ।”
রাঙামাটি-২ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, তিনি প্রতিদিন দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। যেসব এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের মতো দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। বর্তমানে পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী ও অর্থ বরাদ্দ রয়েছে এবং সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে রাতের খাবার বিতরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
এ সময় রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।