দুর্গম থুইসা খিয়াংপাড়ায় আট দিন ধরে আটকে থাকা ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি
![]()
নিউজ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম থুইসা খিয়াংপাড়া এলাকায় আট দিন ধরে আটকে থাকা চারজন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইডকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দুর্গম পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে অভিযান চালিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) একটি টহল দল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে থুইসা খিয়াংপাড়ায় পৌঁছে আটকে থাকা পর্যটক ও স্থানীয় গাইডকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়াপিউ ম্রোপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় একটি জিপে করে তাদের নিরাপদে থানচি উপজেলা সদরে পাঠানো হয়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৪ জুলাই চারজন পর্যটক একজন স্থানীয় গাইডকে সঙ্গে নিয়ে থানচির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা আমিয়াখুম ও বেলাখুম ভ্রমণে যান। তবে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং আকস্মিক বন্যার কারণে উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থুইসা খিয়াংপাড়া এলাকায় তারা আটকা পড়ে যান। সড়ক ও চলাচলের পথ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদে ফিরতে পারেননি। এ সময় স্থানীয় এক বাসিন্দা মানবিক কারণে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেনের নির্দেশনায় জিন্নাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা শুক্রবার বিকেলে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা আটকে পড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
পরদিন শনিবার সকালে বিজিবি সদস্যরা পর্যটক ও স্থানীয় গাইডকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়াপিউ ম্রোপাড়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে আসেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের জিপযোগে থানচি উপজেলা সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি দায়িত্ব পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম একইভাবে অব্যাহত থাকবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।