পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তিতে বাঙালিদের সম্পৃক্ততা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তিতে বাঙালিদের সম্পৃক্ততা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ

পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তিতে বাঙালিদের সম্পৃক্ততা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সেখানে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকে কোনোভাবেই সমাধান প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা যাবে না বলে মত দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনরা। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও অংশগ্রহণকে সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতির অভাব থাকায় পাহাড়ে এখনো কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

আলোচনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে শুধু একটি পক্ষকে নিয়ে এগোনো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকেও সমাধান প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা যাবে না। তাদের সম্পৃক্ত না করে কোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান কিংবা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বিবেচনায় পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বাঙালি জনগোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করা প্রয়োজন।

সভায় বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ, নাগরিক সমাজ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে ভূমি সমস্যা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়গুলো সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন নাজমুল হক প্রধান, বজলুর রশীদ ফিরোজ এবং আব্দুল্লাহ আল কাফি রতনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *