পার্বত্য চট্টগ্রাম: সংঘাতের গণ্ডি পেরিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও জাতীয় সংহতির পথে
![]()
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন
পার্বত্য চট্টগ্রাম চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৮২ সালের নভেম্বর মাস থেকে এই অঞ্চলে অপারেশনাল, গোয়েন্দা এবং কমান্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য আমার হয়েছে। একই সঙ্গে আমি এর বেদনাময় অধ্যায় এবং অসীম সম্ভাবনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। আমি এখানে ভয় এবং বন্ধুত্ব, সংঘাত এবং পুনর্মিলন, বঞ্চনা এবং উন্নয়ন—সবই দেখেছি। সর্বোপরি, আমি দেখেছি এখানকার মানুষের আকাঙ্ক্ষা—শান্তি, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে বেঁচে থাকার তাদের আন্তরিক প্রত্যাশা।
আজ, পার্বত্য চট্টগ্রামকে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অধ্যয়ন ও প্রত্যক্ষভাবে জানার অভিজ্ঞতা থেকে আমি একযোগে একজন সাবেক সৈনিক, পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন ছাত্র এবং বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে এই লেখাটি লিখছি।
অনেক বাংলাদেশির কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম হয় একটি মনোরম পর্যটন গন্তব্য, নয়তো এমন একটি দূরবর্তী সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল, যা মাঝেমধ্যে সংবাদপত্রের শিরোনামে উঠে আসে। বাস্তবে, এটি কেবল এর কোনো একটি নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত সম্পদ। এটি এমন এক ভূখণ্ড, যেখানে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পৃক্ত।
অতএব, পার্বত্য চট্টগ্রামকে আর কেবল সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। এটি একই সঙ্গে শান্তি, জাতীয় নিরাপত্তা, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতীয় সংহতির বিষয়। সর্বোপরি, এটি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে ধারণ করা মানুষের জীবন, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
১৯৮২ সালে একজন তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে যখন আমি প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামে যাই, তখন বহু দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে দিনের পর দিন পায়ে হেঁটে পথ অতিক্রম করতে হতো। যোগাযোগব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সীমিত, আর নিরাপত্তাহীনতা ছিল নিত্যসঙ্গী বাস্তবতা। চার দশকেরও বেশি সময় পরে আজ অনেক কিছুই বদলে গেছে। নির্মিত হয়েছে সড়কপথ, সম্প্রসারিত হয়েছে শিক্ষার সুযোগ, অসংখ্য মানুষের জীবনে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। কিন্তু এই চুয়াল্লিশ বছরেও একটি আকাঙ্ক্ষা অপরিবর্তিত রয়েছে—সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন এবং তাদের সন্তানদের জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। আমার বিশ্বাস, এই আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক, জাতিগত ও ধর্মীয় সকল বিভাজনকে অতিক্রম করে। সম্ভবত এটিই পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে দৃঢ় ভিত্তি।
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রায় ঊনত্রিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। যেখানে একসময় ছিল কেবল পায়ে চলার পথ, সেখানে আজ নির্মিত হয়েছে সড়ক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং পর্যটন অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে বিস্ময়কর উন্নতি। এই রূপান্তরের পেছনে বিভিন্ন সময়ের সরকার, বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অবদান জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।
এই অর্জনগুলো বাস্তব এবং অবশ্যই স্বীকৃতির দাবিদার। তবে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
সশস্ত্র সহিংসতা, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা আজও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে চলেছে। যখনই সহিংসতা সংঘটিত হয়, তখন সাধারণ মানুষই অনিবার্যভাবে তার সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে ওঠে। মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগ, শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ভিন্নমত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ—এসব বিষয় এখনো এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে প্রভাবিত করে চলেছে। এসব বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বা রাজনৈতিকীকরণের পরিবর্তে সৎ ও দায়িত্বশীলভাবে স্বীকার করা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি কোনো একপাক্ষিক বর্ণনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ বাস্তব। মানবাধিকার-সংক্রান্ত উদ্বেগ বাস্তব। ঐতিহাসিক ক্ষোভ ও বঞ্চনার বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই। একইভাবে উন্নয়নের অর্জনও বাস্তব। এসব বাস্তবতাকে একটি অভিন্ন জাতীয় কাঠামোর মধ্যে স্থান দিতে না পারলে টেকসই শান্তি অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় আমি দেখেছি, দুর্যোগ ও সংকটের মুহূর্তে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ সৈনিকদের সঙ্গে নিজেদের খাদ্য ভাগ করে নিয়েছেন। আমি দেখেছি, প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি কর্মকর্তারা মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে গিয়েছেন। আমি দেখেছি, তরুণ শিক্ষার্থীরা তাদের মাতৃভূমির জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাকে শিখিয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ সংঘাতের নয়; তার ভবিষ্যৎ শান্তি, পারস্পরিক আস্থা এবং অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধির।
বাংলাদেশের নবীন প্রজন্ম পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বিস্ময়করভাবে অল্প জানে। জেনারেশন-জেডের অনেকের কাছেই এর কৌশলগত গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এই অঞ্চলটি এখনো অপরিচিত। তারা এখানকার মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে খুব সামান্যই জানে। একইভাবে, গত কয়েক দশকে শান্তি রক্ষা ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে সাধারণ নাগরিক, সরকারি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যে ত্যাগ ও অবদান রয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা প্রায় অজ্ঞাত।
এই জ্ঞানগত শূন্যতার প্রতি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে আরও প্রামাণ্য, বিস্তৃত এবং জাতীয়ভাবে সহজপ্রাপ্য একটি জ্ঞানভিত্তি গড়ে তোলা বাংলাদেশের প্রয়োজন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ-সংক্রান্ত অধিকতর একাডেমিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা উচিত। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ, শিক্ষামূলক উদ্যোগ এবং কৌশলগত সংলাপ জাতীয় পর্যায়ে একটি তথ্যসমৃদ্ধ ও গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাংবাদিক, গবেষক এবং তরুণদের নিয়মিতভাবে এই অঞ্চল পরিদর্শন এবং এখানকার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে মতবিনিময়ে উৎসাহিত করা উচিত।
আমাদের আরও কার্যকর কৌশলগত যোগাযোগব্যবস্থারও প্রয়োজন রয়েছে। যেখানে প্রামাণ্য তথ্য অনুপস্থিত কিংবা সহজলভ্য নয়, সেখানে প্রায়শই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঘটে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে জাতীয় আলোচনায় তথ্য ও সত্যই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। অধিকতর স্বচ্ছতা এবং প্রামাণ্য তথ্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় পর্যায়েই পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
পাহাড়ের মানুষের কখনোই যেন সমতলের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না হয়, আবার সমতলের মানুষও যেন পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অপরিচিত না থেকে যায়। জাতীয় সংহতি কেবল প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্জিত হয় না; এটি গড়ে ওঠে নাগরিকদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্মানবোধ এবং নিয়মিত যোগাযোগ ও মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।
আমার বিশ্বাস, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতৃত্ব এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কৌশলগত পর্যায়ের সংলাপ বাংলাদেশকে বহুগুণে উপকৃত করবে। বিশেষত, এসব উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ আমাদের সময়ের অর্জন এবং এখনো অপূর্ণ থেকে যাওয়া দায়িত্ব—উভয়েরই উত্তরাধিকারী হবে তারাই।
আরও একটি বিষয় রয়েছে, যা জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় মনোযোগের দাবি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। টেকসই পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু-সহনশীলতা বিষয়ে নীতিগতভাবে আরও অধিক গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। পরিবেশের অবক্ষয়, ভূমিধসের ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমন্বিত অংশগ্রহণে বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের অনন্য পরিবেশগত ঐতিহ্য সংরক্ষণ আমাদের সবার অভিন্ন জাতীয় দায়িত্ব হয়ে থাকা উচিত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা স্বচ্ছতা ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নিয়মিত পর্যালোচনা অব্যাহত থাকা উচিত। এ ধরনের পর্যালোচনার উদ্দেশ্য কখনোই রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন বা পরস্পরকে দোষারোপ করা হওয়া উচিত নয়; বরং শান্তি, ন্যায়বিচার, উন্নয়ন এবং জাতীয় সংহতিকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পথ অনুসন্ধান করাই হওয়া উচিত এর মূল লক্ষ্য। প্রত্যেক অংশীজন যেন অনুভব করেন যে, তাঁদের ন্যায্য উদ্বেগ ও প্রত্যাশাগুলো সম্মানের সঙ্গে শোনা হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার যথাযথ প্রতিকার ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিটি উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে স্থান দিতে হবে। সহিংসতার প্রতিটি শিকার, তার জাতিগত পরিচয়, ধর্ম বা রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে, আমাদের সহমর্মিতার দাবিদার। প্রতিটি শিশুর মানসম্মত শিক্ষার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি জনগোষ্ঠী মর্যাদার দাবিদার। অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা কখনোই সম্ভব নয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের কোনো সীমান্তবর্তী অঞ্চলমাত্র নয়। এটি কৌশলগত, সাংস্কৃতিক এবং পরিবেশগত—সব দিক থেকেই আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয় সম্পদ। এখানকার মানুষ শান্তির দাবিদার। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাংলাদেশের প্রাপ্য। আর বিশ্বও জানার অধিকার রাখে এমন একটি অঞ্চলের প্রকৃত ইতিহাস, যা তার বহুমাত্রিক বাস্তবতা সত্ত্বেও সম্প্রীতির পথে নিরন্তর এগিয়ে চলেছে।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরও আমার বিশ্বাস অপরিবর্তিত রয়েছে—শান্তি সম্ভব। তবে কেবল নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা কিংবা শুধু উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন ন্যায়বিচার, সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং জাতীয় সংহতি।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।
একবিংশ শতাব্দীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি, উন্নয়ন এবং জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত হওয়ার যোগ্য। পাহাড় ও সমতলের মানুষ আমাদের সমগ্র ইতিহাস জুড়ে একসঙ্গে বসবাস করে এসেছে। তারা একটি অধিকতর শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার সমঅংশীদার হিসেবে ভবিষ্যতের পথেও একসঙ্গে এগিয়ে চলার অধিকার রাখে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি কোনো অসম্ভব স্বপ্ন নয়, আবার এটি কোনো অপূর্ণ স্লোগানও নয়। এটি একটি অর্জনযোগ্য জাতীয় দায়িত্ব। যদি আমরা একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রজ্ঞা অর্জন করি, সত্যকে তার সকল মাত্রায় ধারণ করার সাহস দেখাই এবং আমাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে মানুষকে স্থান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল সংঘাত অতিক্রম করার একটি গল্প হয়েই থাকবে না; বরং এটি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জনের প্রতীকে পরিণত হতে পারে।
আমার বিশ্বাস, এমন একটি ভবিষ্যৎ আমাদের সকল মানুষেরই প্রাপ্য।
লেখক পরিচিতি- লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন, পিএসসি, ১৯৮২ সালের নভেম্বর মাস থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম (সিএইচটি) নিয়ে অধ্যয়ন করে আসছেন। ১৯৮২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশনাল, গোয়েন্দা ও কমান্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর কর্মস্থলগুলোর মধ্যে ছিল খাগড়াছড়ি, সদর দপ্তর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড, গুইমারা জোন, মহালছড়ি জোন, কাপ্তাই জোন, রুমা জোন এবং জামিনীপাড়া জোন। তিনি মিজোরাম সীমান্তে সীমান্ত নির্ধারণ-সংক্রান্ত অপারেশনাল দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯২-৯৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি-প্রক্রিয়াবিষয়ক সংলাপ চলাকালে তিনি প্রধান গোয়েন্দা সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি স্কুল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে ক্লাস-এ ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পর্যটনের প্রসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বহু নিবন্ধ ও গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
Mail: shahadatb@gmail.com