অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের জন্য ‘এক পদ, এক বেতন’ নীতি বাস্তবায়ন ও ডিফেন্স কলোনি গড়ার নির্দেশ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে ‘এক পদ, এক বেতন’ (One Rank One Pay) নীতি বাস্তবায়ন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং ‘ডিফেন্স কলোনি’ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড পরিদর্শনকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাশরুর হোসাইন ভূইয়া।

পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, একই পদে দায়িত্ব পালনকারী অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য সমান বেতন নিশ্চিত করতে সরকারের ‘এক পদ, এক বেতন’ নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি জেলা পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মিলনকেন্দ্র ও সহায়তার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিটি জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে দেশের ৬১টি জেলায় ওষুধ সংগ্রহের সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মেডিক্যাল স্টোরের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মজুত বাড়ানোর নির্দেশনাও দেন তিনি।

অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের সম্মানজনক ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ‘ডিফেন্স কলোনি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, দেশের জন্য অবদান রাখা প্রাক্তন সৈনিকদের সম্মানজনক শেষ বিদায় নিশ্চিত করতে তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের সম্পৃক্ততা ও সহায়তা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।