মহালছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি কৃষকদের পাশে সেনাবাহিনী, উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ বিতরণ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্যাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার থলিপাড়া ও টিএনটি পাড়া এলাকার প্রান্তিক বাঙালি ও পাহাড়ি কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মহালছড়ি জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন তাহমিদ সামিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ তুলে দেন।
পার্বত্যাঞ্চলের অনেক কৃষক এখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সীমিত কৃষি উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হন। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ক্যাপ্টেন তাহমিদ সামিন বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষকের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক বাঙালি ও পাহাড়ি কৃষকদের সহায়তায় পরিচালিত এই বীজ বিতরণ কর্মসূচি ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে সেনাবাহিনী উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করার চেষ্টা করছে।
উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলেন, সময়মতো উন্নতমানের বীজ পাওয়ায় আগামী মৌসুমে আবাদ করতে অনেক সুবিধা হবে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং অতিরিক্ত ধান বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষি উপকরণ বিতরণের মতো এ ধরনের বাস্তবধর্মী উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কর্মসূচি শুধু কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতেই সহায়ক নয়, বরং পার্বত্যাঞ্চলের বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আস্থা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মহালছড়ি জোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় জনগণের কল্যাণে ভবিষ্যতেও কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, মানবিক সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে। দুর্গম পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আগামীতেও একইভাবে জনকল্যাণে কাজ করে যাবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।