বান্দরবানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদাবাজি-অপহরণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং পাহাড়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা দাবি করা হয়।
‘অস্ত্রের ঝনঝনানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করো’—এই স্লোগানে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
এ সময় বক্তব্য দেন পিসিএনপি বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি আসিফ ইকবালসহ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাঁদাবাজির কারণে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। কৃষক, সবজি উৎপাদনকারী, ব্যবসায়ী, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুরসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও এর বাইরে নন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাঁরা বলেন, পাহাড়ে উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের বাজারমূল্যও বাড়ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, চাঁদাবাজির পাশাপাশি অপহরণ, গুম ও হত্যাকাণ্ডের মতো সহিংস কর্মকাণ্ড পাহাড়ের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের জানমাল ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

কর্মসূচি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান পরিচালনা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চাঁদাবাজি ও সহিংসতা বন্ধ, অপহরণ-গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের বিষয়ে আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। এ জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে পিসিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।