বৈধ ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই থানচি বাজার হস্তান্তরের অভিযোগ, টেন্ডার ছাড়াই নতুন ইজারা

বৈধ ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই থানচি বাজার হস্তান্তরের অভিযোগ, টেন্ডার ছাড়াই নতুন ইজারা

বৈধ ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই থানচি বাজার হস্তান্তরের অভিযোগ, টেন্ডার ছাড়াই নতুন ইজারা
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন থানচি বাজার মাল্টিপারপাস-এর বৈধ ইজারাদারকে পাশ কাটিয়ে টেন্ডার ছাড়াই অন্য ব্যক্তির কাছে বাজারটি হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সুজিত বড়ুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন আগের ইজারাদার।

চুক্তিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লার সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে ৩২ লাখ টাকায় থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের ইজারা পান ঠিকাদার শৈক্যচিং মারমা। চুক্তি অনুযায়ী, ইজারার মেয়াদ ২০২৭ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত।

শৈক্যচিং মারমার দাবি, ইজারার চার বছরের কিস্তি বাবদ তিনি এ পর্যন্ত ২৫ লাখ ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে বাদ দিয়ে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় থানচির বিএনপি নেতা মংশৈম্রাই মারমার কাছে বাজারটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন ইজারাদার প্রথম কিস্তি হিসেবে ১৫ লাখ টাকা জমা দেওয়ার পরই তাকে বাজারটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে নতুন করে কোনো টেন্ডার, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রকাশ্য ইজারা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বকেয়া কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিরোধ

আগের ইজারাদার শৈক্যচিং মারমার অভিযোগ, ইজারার বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য জেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সুজিত বড়ুয়া তাকে বারবার চাপ দেন। দুই বছরের কিস্তি বাবদ প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়। পরে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তির টাকা ব্যাংকে জমা দিলেও ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় পক্ষকে বাজারটি দেওয়া হয়।
শৈক্যচিং মারমা বলেন, “নিয়ম মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাজার পরিচালনা করে আসছিলাম। কিন্তু কোনো নোটিশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই আমাকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তির কাছে বাজারটি হস্তান্তর করা হয়েছে।”

জেলা পরিষদের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, শৈক্যচিংকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়ার সময় তাকে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি এতে রাজি হননি বলে দাবি করেন ওই সদস্য।

নতুন চুক্তিপত্র নিয়েও প্রশ্ন

নতুন ইজারার চুক্তিপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই ও নতুন ইজারাদার মংশৈম্রাই মারমার মধ্যে করা চুক্তিপত্রে কোনো সাক্ষীর নাম নেই। এছাড়া নতুন করে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে জেলা পরিষদের মাসিক সভায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না কিংবা নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে আগের ইজারাদার শৈক্যচিং মারমা ও তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে সাক্ষীদের নাম, কিস্তি পরিশোধের ধাপসহ অন্যান্য শর্ত উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার সুজিত বড়ুয়ার

অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সুজিত বড়ুয়া বলেন, ইজারাদার শৈক্যচিং মারমা বকেয়া টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আগের কোনো চুক্তি মানতে আমি বাধ্য নই।”

বিনা টেন্ডারে কীভাবে নতুন ইজারা দেওয়া হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগেও বিনা টেন্ডারে ইজারা দেওয়া হয়েছে, তাই এবারও বিনা টেন্ডারে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের বক্তব্য

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মনছুর বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট রয়েছে। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হবে।

পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।”

‘ইজারার মেয়াদ থাকা অবস্থায় হস্তান্তর সঠিক হয়নি’—চেয়ারম্যান

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই বলেন, সরকারি ইজারা অনুযায়ী ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত থানচি বাজার মাল্টিপারপাসের বৈধ ইজারাদার শৈক্যচিং মারমা।

তিনি বলেন, “ইজারার মেয়াদ থাকা অবস্থায় কীভাবে অন্য ব্যক্তির কাছে বাজারটি হস্তান্তর করা হয়েছে, তা আমার জানা নেই। ইজারার মেয়াদ থাকা অবস্থায় এভাবে বাজার হস্তান্তর করা সঠিক হয়নি। ইজারা বা টেন্ডার ছাড়া সরকারি স্থাপনা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় বৈধ ইজারাদারকে বাদ দিয়ে নতুন করে বাজার ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া, টেন্ডার হয়েছে কি না এবং জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন থাকায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *