রাঙামাটি জেলা পরিষদে নেই নানিয়ারচরের কোনো প্রতিনিধি, ক্ষোভ-আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে

রাঙামাটি জেলা পরিষদে নেই নানিয়ারচরের কোনো প্রতিনিধি, ক্ষোভ-আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে

রাঙামাটি জেলা পরিষদে নেই নানিয়ারচরের কোনো প্রতিনিধি, ক্ষোভ-আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন পরিষদ গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তবে পুনর্গঠিত ১৫ সদস্যের পরিষদে নানিয়ারচর উপজেলার কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি। একইভাবে বিলাইছড়ি উপজেলারও কোনো স্থানীয় প্রতিনিধি নতুন পরিষদে স্থান পাননি।

নতুন পরিষদের তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নানিয়ারচর উপজেলায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। নতুন পরিষদে উপজেলার কোনো প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষর করেছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানসহ মোট ১৫ সদস্য নিয়ে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দীপন তালুকদার দীপু।

নানিয়ারচর-বিলাইছড়ির কেউ নেই

পুনর্গঠিত পরিষদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকলেও নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে কোনো স্থানীয় প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নানিয়ারচরের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পরিষদের গঠন নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, জেলার একটি উপজেলার কোনো প্রতিনিধি না থাকলে ওই এলাকার স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন চাহিদা ও জনগণের প্রত্যাশা পরিষদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হবে কি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে স্থানীয়রা নানিয়ারচরের জন্য একজন প্রতিনিধি রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, পার্বত্য জেলা পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে পরিষদে উপজেলার একজন প্রতিনিধি থাকলে স্থানীয় জনগণের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

তালিকা প্রকাশের পরই প্রতিক্রিয়া

নতুন পরিষদের তালিকা প্রকাশের পরপরই নানিয়ারচরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। সরকারি দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও বিভিন্ন পোস্ট, কমেন্ট ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন।

স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, নানিয়ারচর ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মধ্যে থাকা একটি উপজেলা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয় জেলা পরিষদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

রাঙামাটি জেলা পরিষদে নেই নানিয়ারচরের কোনো প্রতিনিধি, ক্ষোভ-আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে

অন্যদিকে, নতুন পরিষদে কারা কোন এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং কোন এলাকার জন্য কীভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে—সেটিও এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে পরিষদের সদস্য নির্বাচনে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পায়।

নানিয়ারচরের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মূল বিষয় হচ্ছে—উপজেলার জনগণের স্বার্থ ও স্থানীয় সমস্যাগুলো নতুন পরিষদে কীভাবে কার্যকরভাবে তুলে ধরা হবে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিনিধি না থাকলেও নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপজেলার মানুষের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে এই ঘাটতি অনেকটা পূরণ করা সম্ভব। তবে আরেকটি পক্ষ মনে করছে, সরাসরি স্থানীয় প্রতিনিধি থাকলে নানিয়ারচরের বাস্তব সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা আরও সহজে পরিষদের সামনে উপস্থাপন করা যেত।

এদিকে নতুন পরিষদের কার্যক্রম শুরু হলে নানিয়ারচরসহ প্রতিনিধি না থাকা উপজেলাগুলোর উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো কীভাবে অগ্রাধিকার পায়, সেদিকেও নজর থাকবে স্থানীয়দের।

নতুন পরিষদকে ঘিরে নানিয়ারচরে তৈরি হওয়া আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া আপাতত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন পরিষদ কোনো এলাকার প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে রাঙামাটির সব উপজেলার মানুষের সমান উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *