ফুটবলার রূপনা চাকমার গ্রামসহ আশপাশে উন্নয়নের নতুন ছোঁয়া, ৩ প্রকল্প উদ্বোধন
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের কৃতি গোলকিপার রূপনা চাকমার নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় উন্নয়নের নতুন ছোঁয়া লেগেছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও কৃষি-সেচসংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার বিকেলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাপুরম খালের ওপর সেতু নির্মাণ, বাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক থেকে রূপনা চাকমার বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং ভুইয়াদাম গ্রামে সেচ ড্রেন নির্মাণ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খাল পারাপার ও সড়ক যোগাযোগে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যেত। নতুন সেতু ও সড়ক নির্মাণের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একই সঙ্গে ভুইয়াদাম গ্রামে সেচ ড্রেন নির্মাণের ফলে কৃষিকাজে পানির সরবরাহ আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এতে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের দীর্ঘদিনের সেচসংক্রান্ত সমস্যারও সমাধান হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম ও উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান মোহাম্মদ নোমান বলেন, স্থানীয় জনগণের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করা, কৃষি ও সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে সামনে রেখেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নুরুজ্জামানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাতীয় পর্যায়ে রূপনা চাকমার কৃতিত্বে যেমন এই এলাকার পরিচিতি বেড়েছে, তেমনি তাঁর নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে সেতু ও সড়ক নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য সহজে বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তাদের প্রত্যাশা, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু যোগাযোগ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, প্রত্যন্ত এ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে আরও গতিশীল হবে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।