বাঘাইহাটে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

বাঘাইহাটে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

বাঘাইহাটে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদ বাঘাইহাটে যুবসমাজকে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের কর্মমুখী দক্ষতা গড়ে তুলতে নেওয়া এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাটে স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দুর্গম এ অঞ্চলের তরুণদের কাছে প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীর নেওয়া উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফোনের বিভিন্ন সাধারণ ত্রুটি শনাক্তকরণ, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের পরিচিতি, প্রাথমিক মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্ন নেওয়ার বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কম্পিউটারের মৌলিক ব্যবহার, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের প্রাথমিক ধারণা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।

প্রশিক্ষণে প্রযুক্তির নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশেষ করে মোবাইল রিপেয়ারিংয়ের মতো ব্যবহারিক ও চাহিদাসম্পন্ন কাজে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা ভবিষ্যতে নিজ এলাকায় ছোট পরিসরে ব্যবসা বা সেবা কার্যক্রম গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সনদপত্র প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সনদ ভবিষ্যতে চাকরি কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় শুধু ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা নয়, মানুষের হাতে দক্ষতা তুলে দিয়ে তাদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ বেশি কার্যকর। বাঘাইহাটে সেনাবাহিনীর এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, দুর্গম এলাকার অনেক তরুণের ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সুযোগের অভাবে তারা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারেন না।

বাঘাইহাটে যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মতো দক্ষতার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণদের এমন প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হলে তারা নিজ এলাকায় থেকেই আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। এতে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে পাহাড়ি ও বাঙালি—উভয় জনগোষ্ঠীর স্থানীয় মানুষ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, অভিন্ন উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হয়। সেই অর্থে দক্ষতা উন্নয়নমূলক এ ধরনের কর্মসূচি শুধু অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাই নয়, পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে যোগাযোগ ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ শহরকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, বাঘাইহাটের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিতভাবে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা গেলে আরও বেশি তরুণ-তরুণী দক্ষ হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি মোবাইল সার্ভিসিং, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হলে পাহাড়ের যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাঘাইহাটের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরিতে সেনাবাহিনীর সেই জনকল্যাণমূলক ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা, মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের আরও দুর্গম জনপদের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। এতে পাহাড়ের যুবসমাজ নিজেদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখার সুযোগ পাবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *