মিজোরাম-মিয়ানমার সীমান্তে ৩ একে-৪৭সহ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার, আটক ১; গন্তব্য ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের হানথিয়াল জেলায় অভিযান চালিয়ে তিনটি একে-৪৭ রাইফেল, চারটি ম্যাগাজিন ও নয় রাউন্ড ৭.৬২ মিমি গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ ও আসাম রাইফেলস। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল ২৩ আগস্ট (রোববার) ভোরে হানথিয়াল জেলার নিউ নঘারছিপ গ্রামে থিংসাই থানার পুলিশ ও আসাম রাইফেলসের সদস্যরা স্থানীয় ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমএ) সদস্যদের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানে জাওলপুই গ্রামের বাসিন্দা দারুঙ্গা (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো মিয়ানমারের চিন রাজ্যের লাইসেন গ্রাম থেকে চোরাইপথে মিজোরামে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, দারুঙ্গা দুটি চীনা তৈরি কেনবো মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে এসব অস্ত্র নিয়ে আসেন। অভিযানের সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে মিয়ানমারের দিকে চলে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
আটক দারুঙ্গাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হানথিয়াল থানায় নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো কোথায় এবং কার কাছে সরবরাহের জন্য আনা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, অস্ত্রগুলো মিজোরাম-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সক্রিয় প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়ে থাকতে পারে। এগুলো আইজলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে মিজোরামের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব অস্ত্রের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক উপজাতিভিত্তিক সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কিংবা প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিয়েও ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।