পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই- পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের দেশের মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, “ই-লার্নিং সেন্টার শুধু শিক্ষার পরিধি বাড়াবে না, একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও সহায়ক হবে।”

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে স্থাপিত মাল্টিমিডিয়া ই-লার্নিং সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙামাটি জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার রেজাউল করিম, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নবমনোনীত সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, নবমনোনীত সদস্য মোহাম্মদ ফারুকসহ পরিষদের বিদায়ী সদস্যরা।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার অনেক শিক্ষার্থী আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। এ অবস্থার পরিবর্তনে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

“এই ই-লার্নিং সেন্টার একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দুর্গম পার্বত্য এলাকার পিছিয়ে পড়া স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে,” বলেন তিনি।

May be an image of one or more people, people studying, table and text

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্যও প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।

দুর্গম এলাকায় স্কুল হোস্টেল চালুর পরিকল্পনা

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্কুলে হোস্টেল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও আবাসনের সমস্যা শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আবাসিক সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে স্কুল হোস্টেল চালুর জন্য যেসব উদ্যোগ প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে তা গ্রহণে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার সুযোগ শুধু শহর বা অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদেরও সমান সুযোগ দিতে হবে। প্রযুক্তি ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এসব এলাকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী মাল্টিমিডিয়া ই-লার্নিং সেন্টারের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রটির প্রযুক্তিগত সুবিধা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল উপকরণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তাদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ধীরে ধীরে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed