ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা, গোড়া থেকে কাটা হলো ৬ সরকারি গাছ

ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা, গোড়া থেকে কাটা হলো ৬ সরকারি গাছ

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন চত্বরের ছয়টি সরকারি গাছ ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি গাছ কাটার অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার পর সেগুলোর ৭ থেকে ১০ ফুট লম্বা অংশ ট্রাকে করে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকায় থাকা কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডালপালা ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গাছই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ধাপে গাছগুলো কাটা হয়। এরপর কাটা গাছের বড় অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের দুই পাশে ও ভবনের পাশে থাকা আম ও কাঁঠালসহ চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের কিছু অংশ বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা ঝাউ ও অর্জুন গাছ দুটিও কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশের কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় থাকা গাছ অপসারণের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয়টি গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে, গাছ কাটার অনুমোদনপত্র কোথায় এবং কাটা কাঠের কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের গাড়িচালক ইকবাল এবং ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশে ডালপালা ছাঁটাইয়ের নামে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে কাটা কাঠের একটি অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন যে গাছ কেটে ফেলেছে, সেটা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠ ট্রাকে করে কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও অবাক করার মতো বিষয়। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।” গণপূর্ত বিভাগের প্রবেশপথের দারোয়ান ফোরকান বলেন, গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা গাছের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে গাছগুলো করাতকলে পাঠানো হয়েছে। এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।” তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানাননি বলে জানা গেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি বিভাগের কার্যালয় ও আবাসিক চত্বর থেকে একসঙ্গে ছয়টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল কি না, কে বা কারা গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন চত্বরের ছয়টি সরকারি গাছ ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি গাছ কাটার অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার পর সেগুলোর ৭ থেকে ১০ ফুট লম্বা অংশ ট্রাকে করে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকায় থাকা কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডালপালা ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গাছই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়।

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন চত্বরের ছয়টি সরকারি গাছ ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি গাছ কাটার অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার পর সেগুলোর ৭ থেকে ১০ ফুট লম্বা অংশ ট্রাকে করে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকায় থাকা কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডালপালা ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গাছই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ধাপে গাছগুলো কাটা হয়। এরপর কাটা গাছের বড় অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের দুই পাশে ও ভবনের পাশে থাকা আম ও কাঁঠালসহ চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের কিছু অংশ বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা ঝাউ ও অর্জুন গাছ দুটিও কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশের কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় থাকা গাছ অপসারণের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয়টি গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে, গাছ কাটার অনুমোদনপত্র কোথায় এবং কাটা কাঠের কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের গাড়িচালক ইকবাল এবং ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশে ডালপালা ছাঁটাইয়ের নামে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে কাটা কাঠের একটি অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন যে গাছ কেটে ফেলেছে, সেটা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠ ট্রাকে করে কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও অবাক করার মতো বিষয়। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।” গণপূর্ত বিভাগের প্রবেশপথের দারোয়ান ফোরকান বলেন, গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা গাছের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে গাছগুলো করাতকলে পাঠানো হয়েছে। এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।” তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানাননি বলে জানা গেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি বিভাগের কার্যালয় ও আবাসিক চত্বর থেকে একসঙ্গে ছয়টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল কি না, কে বা কারা গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ধাপে গাছগুলো কাটা হয়। এরপর কাটা গাছের বড় অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের দুই পাশে ও ভবনের পাশে থাকা আম ও কাঁঠালসহ চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের কিছু অংশ বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা ঝাউ ও অর্জুন গাছ দুটিও কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশের কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় থাকা গাছ অপসারণের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়।

এ ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে।

কিন্তু বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয়টি গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে, গাছ কাটার অনুমোদনপত্র কোথায় এবং কাটা কাঠের কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন চত্বরের ছয়টি সরকারি গাছ ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি গাছ কাটার অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার পর সেগুলোর ৭ থেকে ১০ ফুট লম্বা অংশ ট্রাকে করে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকায় থাকা কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডালপালা ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গাছই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ধাপে গাছগুলো কাটা হয়। এরপর কাটা গাছের বড় অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের দুই পাশে ও ভবনের পাশে থাকা আম ও কাঁঠালসহ চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের কিছু অংশ বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা ঝাউ ও অর্জুন গাছ দুটিও কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশের কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় থাকা গাছ অপসারণের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয়টি গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে, গাছ কাটার অনুমোদনপত্র কোথায় এবং কাটা কাঠের কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের গাড়িচালক ইকবাল এবং ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশে ডালপালা ছাঁটাইয়ের নামে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে কাটা কাঠের একটি অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন যে গাছ কেটে ফেলেছে, সেটা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠ ট্রাকে করে কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও অবাক করার মতো বিষয়। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।” গণপূর্ত বিভাগের প্রবেশপথের দারোয়ান ফোরকান বলেন, গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা গাছের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে গাছগুলো করাতকলে পাঠানো হয়েছে। এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।” তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানাননি বলে জানা গেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি বিভাগের কার্যালয় ও আবাসিক চত্বর থেকে একসঙ্গে ছয়টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল কি না, কে বা কারা গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের গাড়িচালক ইকবাল এবং ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশে ডালপালা ছাঁটাইয়ের নামে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে কাটা কাঠের একটি অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন যে গাছ কেটে ফেলেছে, সেটা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠ ট্রাকে করে কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও অবাক করার মতো বিষয়। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।”

গণপূর্ত বিভাগের প্রবেশপথের দারোয়ান ফোরকান বলেন, গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা গাছের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে গাছগুলো করাতকলে পাঠানো হয়েছে। এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন চত্বরের ছয়টি সরকারি গাছ ডালপালা ছাঁটাইয়ের কথা বলে গোড়া থেকে কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন কিংবা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি গাছ কাটার অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও সংশ্লিষ্টদের কাছে নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, গাছগুলো কাটার পর সেগুলোর ৭ থেকে ১০ ফুট লম্বা অংশ ট্রাকে করে বান্দরবান শহরের উজানীপাড়া এলাকার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে কাটা গাছের কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবন এলাকায় থাকা কয়েকটি গাছের ডালপালা ছাঁটাই ও পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ডালপালা ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে ছয়টি গাছই গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কয়েক ধাপে গাছগুলো কাটা হয়। এরপর কাটা গাছের বড় অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের দুই পাশে ও ভবনের পাশে থাকা আম ও কাঁঠালসহ চারটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের কিছু অংশ বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা ঝাউ ও অর্জুন গাছ দুটিও কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা অংশের কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সরকারি গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন সরকারি জায়গায় থাকা গাছ অপসারণের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ এবং প্রয়োজনে নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের অধীনে থাকা ছয়টি গাছ কাটার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। কার অনুমতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে, গাছ কাটার অনুমোদনপত্র কোথায় এবং কাটা কাঠের কী করা হয়েছে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের গাড়িচালক ইকবাল এবং ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশে ডালপালা ছাঁটাইয়ের নামে গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। পরে কাটা কাঠের একটি অংশ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে ওই দুই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন যে গাছ কেটে ফেলেছে, সেটা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠ ট্রাকে করে কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও অবাক করার মতো বিষয়। এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার।” গণপূর্ত বিভাগের প্রবেশপথের দারোয়ান ফোরকান বলেন, গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা গাছের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক ব্যক্তি বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। পরে গাছগুলো করাতকলে পাঠানো হয়েছে। এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে বান্দরবান জেলা গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।” তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানাননি বলে জানা গেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি বিভাগের কার্যালয় ও আবাসিক চত্বর থেকে একসঙ্গে ছয়টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল কি না, কে বা কারা গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি খোঁজখবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।”

তবে তাঁর এ বক্তব্যের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও গাছ কাটার বিষয়ে তিনি আর কোনো তথ্য বা তদন্তের অগ্রগতি জানাননি বলে জানা গেছে।

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটি সরকারি বিভাগের কার্যালয় ও আবাসিক চত্বর থেকে একসঙ্গে ছয়টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলো কাটার অনুমোদন ছিল কি না, কে বা কারা গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিল, কাটা কাঠ কোথায় নেওয়া হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ অপসারণের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed