বাঘাইছড়ির বৃহত্তর মুসলিম ব্লকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
“শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক সকল শিশুর জীবন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে শিক্ষা ও মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বৃহত্তর মুসলিম ব্লক এলাকাকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাদ মাগরিব বাঘাইছড়ি উপজেলা মডেল মসজিদের পার্কিং গ্রাউন্ডে বৃহত্তর মুসলিম ব্লক এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় মসজিদের সভাপতি মো. ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাছির উদ্দীন মজুমদার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর আলম এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ। এছাড়া বৃহত্তর মুসলিম ব্লকের ১৮টি সমাজের সমাজ প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষক, সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বক্তারা ঘোষণা করেন, বৃহত্তর মুসলিম ব্লক এলাকায় মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বক্তারা বলেন, “হয় মাদক ছাড়ো, না হয় এলাকা ছাড়ো।”
তবে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন বক্তারা। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবারকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় মাদকের পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, একটি এলাকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সেই এলাকার শিশু ও তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজের।
তরুণদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হবে। বিপরীতে মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম নানা ধরনের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংকটে জড়িয়ে পড়তে পারে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে পরিবার ও স্থানীয় সমাজ। সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুত্ব ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনো তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাকে ঘৃণা না করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।
একই সঙ্গে এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড এবং মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ১৮টি সমাজের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়ানো এবং শিশু-কিশোর ও তরুণদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে শুধু ঘোষণা যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ। পরিবার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সমাজ প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বৃহত্তর মুসলিম ব্লককে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এলাকা হিসেবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
তাদের আহ্বান—শিশুদের হাতে তুলে দিতে হবে শিক্ষার আলো, তরুণদের রাখতে হবে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে। সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।