মহালছড়ির দুর্গম পাহাড়ে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মহালছড়ি থানা পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিকা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বজনদের এ অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে স্থানীয় যুবক ও মোটরসাইকেলচালক খোকন ত্রিপুরার সঙ্গে নিকা ত্রিপুরার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নিকা স্থানীয় কার্বারী নিরঞ্জনের কাছে বিচারও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও নিকা ও খোকন ত্রিপুরার মধ্যে পুনরায় যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগো মারমা।

কার্বারী থৈঅংগো মারমার দাবি, শনিবার সকালে নিকা ত্রিপুরার মরদেহের পাশে থাকা একটি মোবাইল ফোন খোকন ত্রিপুরা নিয়ে যান। পরে ওই ফোনে থাকা কলের নম্বরগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়রা এ বিষয়ে খোকন ত্রিপুরাকে প্রশ্ন করলে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া বা কলের তথ্য মুছে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসীর দাবি, নিকা ত্রিপুরার ঘরে প্রায় চার ভরি স্বর্ণ ও নগদ সাত লাখ টাকা ছিল। তার মৃত্যুর পর এসব স্বর্ণ ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেছেন। তবে এ দাবিরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

নিহতের পালিত কন্যা শিখা ত্রিপুরা (৮) জানায়, শনিবার সকালে সে পাশের গ্রামে তার নানির বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে এসে মাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভয় পেয়ে সে স্কুলে চলে যায়। পরে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।
জানা গেছে, নিকা ত্রিপুরা নিঃসন্তান ছিলেন। শিখা ত্রিপুরাকে তিনি পালিত কন্যা হিসেবে লালন-পালন করছিলেন।
নিহতের স্বামী সেতু ত্রিপুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সাধারণ আনসার হিসেবে কর্মরত। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি গাড়িতে রয়েছেন এবং দ্রুত মহালছড়িতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে স্বজনদের ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয়দের পরকীয়ার বিরোধসংক্রান্ত তথ্য এবং স্বর্ণ ও টাকা নিখোঁজের দাবিসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।