বাজার ফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ চালুর দাবিতে রাঙামাটিতে পিসিএনপির বিক্ষোভ
![]()
জার্নাল প্রতিবেদক
বাজার ফান্ড এলাকায় জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সুযোগসহ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ভূমি হস্তান্তর ও বন্ধকি দলিল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালুর দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) এবং সংগঠনটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের হ্যাপি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলার আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ, বান্দরবান জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাজার ফান্ডের জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজার ফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ নিতে না পারায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সুযোগ না থাকায় অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে ব্যবসার পরিধি ছোট হয়ে আসছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ কমছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের ওপর। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যরত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও সম্ভাব্য ঋণ কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে দাবি করেন পিসিএনপির নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বাজার ফান্ডের ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতার পেছনে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিধিনিষেধকে দায়ী করেন। তারা জানান, ২০১৭ সালে রাঙামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক বাজার ফান্ড এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রি ও মিউটেশন মামলা স্থগিত করেন। পরে বিভিন্ন দেন-দরবারের পর কার্যক্রম চালু হলেও ২০১৯ সালে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ব্যবসায়ীরা জমি বন্ধক রেখে ব্যাংক ঋণ গ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
পিসিএনপির নেতারা বলেন, বাজার ফান্ডের জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা যতদিন অবসান না হবে, ততদিন পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে থাকবে। এ অবস্থার দ্রুত অবসান করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে বাজার ফান্ড প্লটের লিজের মেয়াদ ৯৯ বছরে উন্নীত করা এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ কার্যক্রম পূর্বের ন্যায় চালুর দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয় ও নামজারির ক্ষেত্রে তিন দফা এলআর ফান্ড বন্ধ করে দেশের অন্যান্য ৬১ জেলার ন্যায় ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসা, চাকরি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সার্কেল চিফের সনদ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবিও তুলে ধরেন বক্তারা।
বক্তারা আরও দাবি জানান, হেডম্যান কার্যালয়ের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে ভূমির কর বা খাজনা পরিশোধের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাদের মতে, এতে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রত্যাহার করা ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবিও জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতা দূর করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে পিসিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তিন পার্বত্য জেলায় আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।
- অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
- ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
- ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।