বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পাহাড়ি পরিবারের পাশে সিসিডিবি

বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পাহাড়ি পরিবারের পাশে সিসিডিবি

বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পাহাড়ি পরিবারের পাশে সিসিডিবি
“এখান থেকে শেয়ার করতে পারেন”

Loading

জার্নাল প্রতিবেদক

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। সংস্থাটির উদ্যোগে জেলার টংকাবতী ইউনিয়নের সাঁয় পাড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পরিবারের মধ্যে জরুরি খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে টংকাবতী ইউনিয়নের সাঁয় পাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তা তুলে দেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ ৮ হাজার টাকা, ২৫ কেজি চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বন্যার কারণে ঘরবাড়ি, খাদ্যসংস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সংকটে পড়া পরিবারগুলোর জন্য এ সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পাহাড়ি পরিবারের পাশে সিসিডিবি

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে পড়েন। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্গম পাড়াগুলোতে দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরাসরি খাদ্য ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিসিডিবির নির্বাহী পরিচালক জুলিয়েট কেয়া মালাকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাইমং মার্মা, চনুমং মার্মা ও অ্যাডভোকেট উম্মাচিং মার্মা, টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং ইয়ং ঞা পাড়ি, সিসিডিবির ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক জজ অসিত সিংহসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংস্থাটির কর্মকর্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বলেন, সিসিডিবি দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বন্যার মতো দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭১ পাহাড়ি পরিবারের পাশে সিসিডিবি

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে বিষয়েও সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিসিডিবি সূত্রে জানা গেছে, শুধু টংকাবতীর সাঁয় পাড়ার ৭১ পরিবার নয়, বান্দরবান সদর, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নের ৬২৫টি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারকে পর্যায়ক্রমে জরুরি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার আরও ৩৫০টি পরিবারকে খাদ্য ও হাইজিন কিট এবং শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে তাদের জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক করতে এসব সহায়তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে, দুর্যোগের কঠিন সময়ে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি নগদ সহায়তা পাওয়ায় পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে।

  • অন্যান্য খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন।
  • ফেসবুকে আমাদের ফলো দিয়ে সর্বশেষ সংবাদের সাথে থাকুন।
  • ইউটিউবেও আছি আমরা। সাবস্ক্রাইব করে ঘুরে আসুন ডিজিটাল কন্টেন্টের দুনিয়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *